ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুর্গম গ্রামে হাম উপসর্গের বিস্তার

দুই দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ জন

দুর্গম গ্রামে হাম উপসর্গের বিস্তার
×

ডিএনসিসি হাসপাতালে হাম উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর শুশ্রূষায় এক মা -সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক ও বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০৮ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম ইউনিয়ন কুরুকপাতা। এই ইউনিয়নে প্রায় ১৩৫টি পাড়া রয়েছে; অধিকাংশই মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা। উপজেলা শহর থেকে কুরুকপাতার এসব পাড়ায় যাতায়াতের সহজ কোনো উপায় নেই। হেঁটেও পৌঁছাতে লাগে কয়েক ঘণ্টা। তাই কেউ অসুস্থ হলে সেখানকার বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্প্রতি তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, এই দুর্গম এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে যত শিশু অসুস্থ হয়েছে, তাদের অধিকাংশ জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। শরীরে ফুসকুড়িও দেখা গেছে। এর সবই হামের উপসর্গ। এই উপসর্গ নিয়ে সেখানে দুই সপ্তাহে তিন শিশু মারা গেছে। 

এদিকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে ১৫ শিশু; প্রত্যেকের বাড়ি কুরুকপাতায়। হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ হাসান বলেন, ১৩ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার ১৬ জন চিকিৎসা নিতে আসে। তার মধ্যে ছয়জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার থেকে ভর্তি আছে ৯ শিশু। গত দুই সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১ রোগী এসেছে। এর মধ্যে ২৮ জনকে ভর্তি করা হয়। 

হাম আতঙ্কে ফাঁকা অনাথ আশ্রম
কুরুকপাতা ইউনিয়নের ইয়াংরিংপাড়ায় ‘প্রেন্নই হোস্টেল’ নামে একটি বেসরকারি অনাথ আশ্রম রয়েছে। সেখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ১৫০ ম্রো শিশু। আশ্রমটিতে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নেই। যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে হলে আলীকদম শহরে যেতে হয়। সেখানে পৌঁছাতে চান্দের গাড়িতে জনপ্রতি ৬০০ টাকা ভাড়া লাগে। জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ি কল দিয়ে ডাকার জন্য মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও থাকে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি আশ্রমের শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা গেছে।

আশ্রম সূত্র জানায়, সাত-আট দিন আগে থেকে আশ্রমের শিশুরা জ্বর, সর্দি ও পেট ব্যথায় ভুগতে থাকে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পাশের বাজারের এক ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়নি তারা। এর মধ্যে অসুস্থ শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত মঙ্গলবার তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চাংমুম ম্রো (৮) অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার জ্বর-সর্দি হয়েছিল। কিন্তু অবস্থা তেমন খারাপ মনে না হওয়ায় সে হাসপাতালে যেতে চায়নি। রাতে জ্বর, সর্দি বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে ছিল পেট ব্যথা। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তৎক্ষণাৎ কোনো গাড়ি মেলেনি। হাসপাতালে নিতে গাড়ির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বুধবার ভোরে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর আশ্রম এখন প্রায় ফাঁকা। অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ। তাদের বিভিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার থেকে আশ্রম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

চাংমুমকে হাসপাতালে নেওয়ার গাড়ি মেলেনি
প্রেন্নই হোস্টেলের পরিচালক উথোয়াইংগ্য মারমা সমকালকে জানান, ইতোমধ্যে আশ্রমের প্রায় ৬০ শিশু হাম শনাক্ত হয়েছে বলে ধারণা করছি। কারণ, সবার শরীরেই হামের উপসর্গ দেখা গেছে। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। অনেককে অভিভাবকরা বাড়ি নিয়ে গেছেন। তারা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। সর্বশেষ তিন শিশু লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিল। গতকাল দুজনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একজন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চাংমুমের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুটি গত মঙ্গলবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার জ্বর-সর্দি হয়েছিল। তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাকেও হাসপাতালে নিতে চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু শরীর তেমন খারাপ না লাগায় মেয়েটি যেতে চায়নি। কিন্তু রাতের দিকে সে হঠাৎ খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার প্রচণ্ড জ্বর আসে। সঙ্গে পেট ব্যথা। ওই রাতে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি পাওয়া মুশকিল। তবে আশ্রম থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে একটা বাজার রয়েছে। সেই বাজারে কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক থাকেন। তারা ভাড়ায় শহরে যান। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সম্প্রতি তারা তেমন আসেন না।

উথোয়াইংগ্য বলেন, অসুস্থ শিশুটিকে মঙ্গলবার রাতে পিঠে করে সেই বাজারে নিয়ে যান এক শিক্ষক। আমরা ভেবেছিলাম, সেখানে গেলে হয়তো অন্তত একটা মোটরসাইকেল পাওয়া যাবে। এরপর সেই মোটরসাইকেলে তাকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হবে। কিন্তু সে রাতে কোনো মোটরসাইকেল পাওয়া যায়নি। সকাল হওয়ার অপেক্ষা করতে করতে ভোরে শিশুটি মারা যায়। 

উপসর্গে মারা গেছে দুই শিশু
এর আগে ১১ এপ্রিল কুরুকপাতা ইউনিয়নে দুই শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তারা হলো– রিংলতপাড়ার লুকুন ম্রোর সাত মাসের ছেলে খতং ম্রো এবং লেংক্লান ম্রোর তিন মাসের মেয়ে জংরুং ম্রো। এই দুই শিশুর মৃত্যু হামে নয় বলে ধারণা চিকিৎসকদের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, কুরুকপাতা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে। ছোট-বড় মিলিয়ে ওই ইউনিয়নে প্রায় ১৩৫টি পাড়া রয়েছে। এসব পাড়ার মোট বাসিন্দা প্রায় ১২ হাজার। সীমান্ত সড়কের সঙ্গে আলীকদম-জানালিপাড়া-পোয়ামুহুরী হয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। তবে অধিকাংশ পাড়া সড়ক থেকে অনেক দূরে। বিশেষ করে ম্রো পাড়াগুলোতে কোনো সড়ক নেই। ওইসব এলাকার ৯৫ শতাংশ পাড়ায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও মেলে না। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে খবর দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াগুলোতে বহু শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হওয়া পাড়াগুলো বেশির ভাগ সীমান্তঘেঁষা। সেখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাজার থেকে আক্রান্ত এলাকায় যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা হাঁটা লাগে। ওইসব দুর্গম এলাকা থেকে নিয়ে আসতে অনেক খরচ। উপজেলা সদর পর্যন্ত পৌঁছানো এসব দরিদ্র ম্রোদের পক্ষে বেশির ভাগ সময় সম্ভব হয় না।

যা বলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হানিফ বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসা বেশির ভাগ রোগী কুরুকপাতা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকার। টিকা ক্যাম্পেইন কিংবা নিয়মিত টিকাদানের জন্য কর্মীরা যখন ওইসব এলাকায় যান, তখন শিশুদের পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ সময় কাজের জন্য সীমান্তের ওপারে মা-বাবার সঙ্গে থাকে তারা। ফলে টিকার আওতায় না আসায় এলাকাগুলোতে হামের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।

তিনি জানান, শনিবার থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। প্রতি ওয়ার্ডে দুজন করে স্বাস্থ্যকর্মী যাবেন। প্রতি ঘরে গিয়ে খোঁজ নেবেন তারা। হামের উপসর্গে অসুস্থ ১০ বছরের নিচে কাউকে পাওয়া গেলে হাসপাতালে নেওয়া হবে।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট পাঁচ শিশু ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, অনেক দুর্গম এলাকা আছে, যেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করা অসম্ভব। আবার একটি পাড়া থেকে আরেকটি পাড়ার দূরত্ব অনেক। এসব কারণে একটু জটিলতা তৈরি হয়। হামের টিকা দিতে একটি মেডিকেল টিম আজ শুক্রবার সকালে আক্রান্ত এলাকায় যাবে। অন্যান্য চিকিৎসাসেবাও দেবেন তারা।

হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু 
দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি চারজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ১৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮৪৭ জন শিশুর মধ্যে ১২৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।

মোট চিত্র উদ্বেগজনক
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ২৩৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে ৩৯ জন সরাসরি হামে এবং ১৯৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এই দেড় মাসে মোট ২৮ হাজার ৩৩৪ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ১৮ হাজার ৮৪৫ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসা শেষে ১৫ হাজার ৭২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে চার হাজার ৫৯ জন রোগীর শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ
রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২১ এপ্রিল মহাখালী কার্যালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শয্যা সংকটের অজুহাতে কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ফেরত দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেবল জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলেই রোগীকে অন্য হাসপাতালে ‘রেফার’ করা যাবে। উপজেলা থেকে শুরু করে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত এই রেফারাল চেইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দায়ী থাকতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

পুষ্টি সচেতনতায় জোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
গতকাল রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শিশুদের অপুষ্টি দূর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা হামের মতো রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী নবজাতককে শালদুধ খাওয়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘মায়ের বুকের দুধ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য। এটিই শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে।’ ফাস্টফুড বাদ দিয়ে শিশুদের শাকসবজি, মাছ ও সুষম খাবারে অভ্যস্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ময়মনসিংহে এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মাসের শিশুটি মারা যায়। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মূলত নিউমোনিয়ার সঙ্গে হামের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে মোট ৭৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৬৭ জন। তবে সংক্রমণের এই ধারায় গত এক মাসে মোট ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৬৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৭ জন।

(তথ্য দিয়েছেন ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক)

 

আরও পড়ুন

×