ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পোশাক খাতের বর্জ্য হবে সম্পদ

জাতীয় কৌশলের খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে এ বছরই

এই কৌশলে ব্যবসায়িক মডেল তৈরি ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে

জাতীয় কৌশলের খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে এ বছরই
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০০:২৮

তৈরি পোশাক খাতের বিপুল বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘জাতীয় সার্কুলার ইকোনমি কৌশল’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ সুরক্ষা ও পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে চলতি বছরের মধ্যেই এই কৌশলের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।
 
সরকার, শিল্প মালিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এই কৌশলের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ ও কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সভায় ঐকমত্য পোষণ করা হয়। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফিনল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইনস’ (সুইচটুসিই) প্রকল্পের আওতায় এবং চ্যাথাম হাউসের সহযোগিতায় জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় জানানো হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে ‘প্রি-কনজিউমার’ বর্জ্য তৈরি করে। এসব বর্জ্যকে রিসাইক্লিং বা পুনর্চক্রায়নের মাধ্যমে সার্কুলার টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসনে পৌঁছাতে পারে। 

এ ছাড়া মিশ্র তন্তুর পুনর্ব্যবহারে চ্যালেঞ্জ, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জাতীয় সার্কুলার কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে একটি টেকসই টেক্সটাইল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রতি জোর দেওয়া হয়। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুর রহিম খান সভায় জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বাণিজ্য অংশীদারদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সার্কুলার টেক্সটাইলের ওপর একটি শক্তিশালী জাতীয় কৌশল প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। সরকার চলতি বছরের মধ্যেই অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ এবং কারিগরি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই কৌশল চূড়ান্ত করবে। শিল্প খাতের উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের এই কৌশল বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি হুবার্ট ব্লম বলেন, ইউরোপের বাজারে সার্কুলার ইকোনমি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য হিসেবে ইইউ এই রূপান্তরে জ্ঞান বিনিময় ও অর্থায়নের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

চ্যাথাম হাউসের ড. প্যাট্রিক শ্রোডার বলেন, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য একটি জাতীয় সার্কুলার কৌশল বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে সাহায্য করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। সুইচটুসিই থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনকে কাজে লাগিয়ে চ্যাথাম হাউস ও ইউনিডো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ২০৩১ সালের জন্য একটি বিস্তৃত সার্কুলার টেক্সটাইল কৌশল চূড়ান্ত করতে এবং জাতীয় নীতি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

ইউনিডোর মার্ক ড্রেক বলেন, টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের জন্য জাতীয় সার্কুলার ইকোনমি কৌশল অপরিহার্য। এই ধরনের কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংকেত প্রদান করবে, শিল্পে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে। 

আলোচনায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএর শীর্ষ নেতারা পোশাক খাতের ঐক্যবদ্ধ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রত্যাশা পূরণ এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সার্কুলার পদ্ধতি এখন আর ঐচ্ছিক নয়, অপরিহার্য।

আরও পড়ুন

×