ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাল উদ্ধার না হলে বাড়বে জলাবদ্ধতা ও দূষণ: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

খাল উদ্ধার না হলে বাড়বে জলাবদ্ধতা ও দূষণ: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:০৭

সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, খাল শুধু দখলমুক্ত করলেই হবে না, এগুলোকে চলাচলযোগ্য ও কার্যকরভাবে চিহ্নিত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ দখল করতে না পারে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত ‘গঙ্গা চুক্তি ও অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর খালগুলো অনেক জায়গায় ভরাট, সংকুচিত ও দূষিত হয়ে স্বাভাবিক নৌপথ ব্যাহত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা বাড়ছে। জিরানি ও মাণ্ডা খালের মতো প্রধান খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে। দখলদারদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের উচ্ছেদে আইনি বাধা নেই। সরকার নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায় জানিয়ে এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোঙর ট্রাস্টের সভাপতি সুমন শামস। তিনি বলেন, গঙ্গা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা শুধু কূটনৈতিক ইস্যু নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিবেশের প্রশ্ন। অভিন্ন নদী মানে অভিন্ন দায়, তাই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, তথ্য বিনিময়, যৌথ নদী কমিশনের কার্যকর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক নদী আইন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা বলেন, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন ও যৌথ কারিগরি আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ন্যূনতম পানির নিশ্চয়তা, বেসিনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, বাংলাদেশের চারটি বেসিনকে কেন্দ্র করে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি জানান, বিশ্বে প্রায় ২৬০টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ৫৭টি নদীর সঙ্গে যুক্ত।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব, তোফায়েল আহম্মেদ, জাকিয়া শিশির, মিহির বিশ্বাস, নাজির আহমেদ সিমাব, মিস নাহিদা আশরাফী, ফরিদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন আহমেদ এবং সামসুজ্জামান খান।

আরও পড়ুন

×