একনেক বৈঠক
প্রকল্পে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: ফাইল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৪ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৫৬
উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের ব্যয়ের যৌক্তিকতা আরও যাচাই-বাছাই ও সাশ্রয়ী করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ একনেক বৈঠকের বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের অবহিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবর অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। সব উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যেন সেগুলো বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সরকারকে অবশ্যই ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রতিটি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
একনেক সভায় ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প পাঁচটি ও সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প চারটি। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন আট হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুমোদিত ১৪ প্রকল্প
একনেক সভায় অনুমোদিত ১৪ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু ইন্টিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার ফর দ্য আরবান পপুলেশন প্রকল্প। এ ছাড়া রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এটি প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে– রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড ভালনারেবল রিডাকশন প্রথম সংশোধনী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প।
সর্বাধিক পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্প, সীমান্ত সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), বৈরাগীরপুল-টুমচর-বাউফল জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল (চর কাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষ্মী পাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প। এ ছাড়া রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প ও মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ নামে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বৈঠকে।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ৩৩টি প্রকল্প অবহিত করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলার হিসনা ও সাগরখালী নদী পুনর্খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বারনই নদী পুনর্খনন, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ, কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী নদী পুনরুজ্জীবিত, দখলমুক্ত ও দূষণমুক্তকরণ, রংপুর জেলার আলাইকুড়ি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প ইত্যাদি। এর বাইরে বেশির ভাগ প্রকল্পের সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- একনেক বৈঠক
