ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তামাকে কর বাড়বে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী 

ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে তামাকে কর বাড়বে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী 
×

ইআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্যে দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:১০

উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়ন জোরদার করতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যেই তামাক পণ্যের দাম ও কর বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কর ও মূল্য বাড়ানো জরুরি।

সোমবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক পণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর–ডরপ ও ইআরএফ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। 

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, কর বাড়ানোর পাশাপাশি করের আওতা সম্প্রসারণে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো কর কাঠামোর বাইরে রয়েছে। এ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে তামাকের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যা মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি কার্যকর হয়।

কর্মশালায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান বলেন, বিদ্যমান কর কাঠামোর কারণে সরকার সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কার্যকর তামাক কর বাস্তবায়ন করলে ধূমপান কমার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে তিন স্তরের নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। তিনি সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে সুনির্দিষ্ট কর আরোপেরও সুপারিশ করেন।

কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ—এই চার স্তরের সিগারেট রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ বিক্রি হয় নিম্ন ও মধ্যম স্তরে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দুই স্তর একত্রিত করে তিন স্তরের নতুন কাঠামোতে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা উচিত।

প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে ভারতে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ।

ডরপের প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা।

আরও পড়ুন

×