সংসদ অধিবেশন
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব, সময় নিল বিরোধী দল
ফাইল ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৩ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল। গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, কমিটিতে বিএনপির সাতজন এবং স্বতন্ত্রসহ সরকারি জোটের পাঁচজন এমপিকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি হবে ১৭ সদস্যের, বাকি পাঁচজনের নাম বিরোধী দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আহবান জানান তিনি।
এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। আইনমন্ত্রীর এই প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবের সঙ্গে বিরোধী দলের ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে। তাই এখনই তিনি নাম দিতে পারছেন না, সময়ের প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম পাওয়া গেলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে জুলাই সনদ সামনে রেখে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে। কমিটিতে বিরোধী দলকে স্বাগত জানিয়ে তিনি জানান, নাম পাওয়ার জন্য আগামী অধিবেশন পর্যন্ত সরকার অপেক্ষা করবে।
তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চায়। জামায়াত-এনসিপি জোটের অবস্থান হলো, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে। জুলাই সনদে যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে, তা মানতে হবে। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বিশেষ কমিটির জন্য ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করা হয়েছে। দেশে আজ সংবিধানের চর্চা চলে চায়ের দোকান পর্যন্ত। সেই চর্চা সংসদেও করতে চাই। সেই চর্চার অংশ হিসেবে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিশেষ কমিটির কথা বলেছিলেন, যা হবে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। কমিটির ১২ জনের মধ্যে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদ নেতার পক্ষ থেকে চিফ হুইপের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছে। বিরোধী দলের নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি দলের সঙ্গে ধারণাগত পার্থক্য আছে। বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার চায়। কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গাটায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও তা রয়েছে।
এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অসুবিধা নেই। সরকারি দল অপেক্ষা করবে। জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে এগিয়ে যাওয়া হবে। সুতরাং এ জন্য অপেক্ষা করতে হয়, পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না।
- বিষয় :
- সংসদ অধিবেশন
- সংবিধান সংশোধনী
- কমিটি গঠন
- সংসদ
