ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন

তেল-গ্যাসের তিন কূপ খনন করবে দুই চীনা প্রতিষ্ঠান

তেল-গ্যাসের তিন কূপ খনন করবে দুই  চীনা প্রতিষ্ঠান
×

ছবি-সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৯:১৩ | আপডেট: ০১ মে ২০২৬ | ০৯:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে গভীর শিলাস্তরে অনুসন্ধান জোরদারের অংশ হিসেবে তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুটি গ্যাস কূপ এবং একটি তেল কূপ। এসব কূপ খননে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। তিনটি কূপ খননের কাজ পেয়েছে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কূপ খননের পাশাপাশি ডিজেল, মসুর ডাল, সারসহ মোট ১০টি কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘৩টি অনুসন্ধান কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১ কূপ খননের জন্য টার্ন-কি ভিত্তিতে (ডিজাইন, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, নির্মাণ, পরীক্ষা– সবকিছু) ঠিকাদার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। সব প্রক্রিয়া শেষে চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুংকুইং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

‘সিলেট-১২ নম্বর কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় আনুষঙ্গিক কাজসহ কূপ খননের জন্য টার্ন-কি ভিত্তিতে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ কাজের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা চীনের প্রতিষ্ঠান সাইনোপ্যাক ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম সার্ভিস করপোরেশনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে এক কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩২ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। 

অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাব 
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও এক লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মাজেদা অয়েল কোম্পানি থেকে এক লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানি করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতি বৈঠকে জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে টিসিবির কার্ডধারী স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ৯ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রকল্প পিপিপিতে হবে না 
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই ধরনের আরও বৃহৎ একটি প্রকল্প জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×