ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আসছে পরামর্শক কমিটি: তথ্যমন্ত্রী

ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ভাবনা

গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আসছে পরামর্শক কমিটি: তথ্যমন্ত্রী
×

রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: পিআইডি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:৩০ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:৪৭

একটি স্বাধীন, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে শিগগিরই একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সকল অংশীজনের মতামত নিয়ে সময় নিয়ে হলেও একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোববার নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পরামর্শ কমিটি চাই, যা সকল পক্ষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাবে। সময় লাগলেও সমস্যা নেই, তবে সেটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এই গ্রহণযোগ্যতার ধারাবাহিকতায় একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের জন্ম হবে।

গণমাধ্যম কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার নিজেও একটি পক্ষ হওয়ায় অভিভাবকের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন সবসময় সম্ভব নয়। এ বাস্তবতায় একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে টেক জায়ান্টদের বাইরে অন্য কোনো পক্ষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ক্ষমতা মূলত কনটেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ সমস্যার প্রকৃতি ডিজিটাল হলেও বিদ্যমান কাঠামো এখনও অনেকাংশে সেকেলে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার ঘাটতি রয়েছে।

বর্তমান গণমাধ্যমের পরিমাপ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তথ্যমন্ত্রী। টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণ এবং পত্রিকার সার্কুলেশন পদ্ধতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,সামান্য কয়েকটি বক্স দিয়ে পুরো দেশের টিআরপি নির্ধারণ করা হয়, যা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। একইভাবে পত্রিকার ছাপার সংখ্যার ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে অপ্রমাণিত ধারণা চালু রয়েছে।

অনুষ্ঠানে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে মানুষের আস্থা বেড়ে যাওয়ায় মূলধারার গণমাধ্যম নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ‘দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস’-এর সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার ওপরও নির্ভর করে। অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রতিযোগিতাকেও তিনি গণমাধ্যমের বর্তমান দুরবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে পূর্বে দেওয়া ২১২ দফা সুপারিশ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলো বাস্তবায়ন করা হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় ‘কালের কণ্ঠ’-এর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তিনি নতুন সরকারের কাছে অংশীজনদের নিয়ে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, গণমাধ্যম সংষ্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

আরও পড়ুন

×