ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাষ্ট্রের চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রের চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না
×

আব্দুল মুক্তাদির

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:০১ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১২:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তি ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চান। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এটিকে ভালোভাবে বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তিগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে সফরে আসা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কিছু কিছু ধারায় এক পক্ষের অনুকূলে হলেও অন্য ধারা আরেক পক্ষের অনুকূলে হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা।

স্বার্থের অনুকূলে না থাকায় বাংলাদেশ কি চুক্তি বাতিলের পথে যাবে– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই সরকার দেশের মানুষের নির্বাচিত। দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করি আমরা। সব চুক্তির মতো এই চুক্তিতেও সেলফ কেয়ারিং এলিমেন্ট আছে। আমাদের কাছে যদি কোনো সময় মনে হয়, এই চুক্তির কোনো একটি ধারা বা একাধিক ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে নয়, তা সংশোধনের সুযোগ এই চুক্তির মধ্যে আছে। সুতরাং এটি নিয়ে আপনাদের চিন্তিত না হওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করব।’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, কার্যকর না হলেও বাংলাদেশ বিদ্যমান চুক্তির মধ্যে থাকায় এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।

বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ওভার ক্যাপাসিটি নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। 

যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে বেঁধে ফেলেছে বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে। এ ধরনের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যে কোনো চুক্তি নিয়ে। আমরা তো একা চুক্তি করিনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়ার জন্য ২৩১টিতে এ রকম বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন। আমি বলব, আপনারা সবাই মিলে সেটা দেখেন, তুলনামূলক দেখেন, আমরা কী পেয়েছি কী পাইনি।’

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে, তোমাদের পাল্টা শুল্ক দেওয়া হবে। যেমন আমাদের ৩৯ শতাংশ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল। অন্যান্য সব দেশকেও দিয়েছে, সবাই দরকষাকষি করেছে। কেউ শুল্ক ২০ পেয়েছে, আমরা ১৯ পেয়েছি। এই চুক্তিগুলো উন্মুক্ত, এখন পাওয়া যাচ্ছে। আপনারা বাংলাদেশের চুক্তি অন্যান্য দেশের চুক্তির সঙ্গে তুলনা করে পড়ুন। তাহলে বুঝবেন যে আমরা কী রেট পেয়েছি। নীতিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের আমদানি প্রতিশ্রুতি কত, আমাদের আমদানি প্রতিশ্রুতি কত।’
গতকাল তিন দিনের সফরে মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। আজ বুধবার সকালে প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক করবে। শেষ দিনে প্রতিনিধি দল শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন খাতের নেতাদের সঙ্গে মোট চারটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবে। 

আরও পড়ুন

×