ফল
সাতক্ষীরার আমে মৌসুম শুরু
সাতক্ষীরায় গোপালভোগ, গোবিন্দভোগসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার একটি বাগানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ছবি- সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:১৯ | আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ | ১১:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার সুমিষ্ট ও সুস্বাদু আমের স্বাদ নেওয়ার অপেক্ষা শেষ হলো। নির্ধারিত সময়সূচি (ম্যাংগো ক্যালেন্ডার) মেনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ফিংড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাগান থেকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
প্রথম দিন বাগান থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন স্থানীয় জাতের পরিপক্ব আম সংগ্রহ করেন চাষিরা। এর মাধ্যমে সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম দেশজুড়ে পাঠানো শুরু হয়েছে। আমচাষি আবু সাইদ বলেন, আবওহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাইরে থেকে ব্যাপারী এলে আমের দাম বাড়তে পারে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকারের সঞ্চালনায় আম সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। প্রতিবছর এ জেলায় আমের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম নিশ্চিত করতে হবে। অপরিপক্ব ও ফরমালিনযুক্ত আমের বাজারজাত ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সিন্ডেকেট ভেঙে কৃষকরা যাতে নায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় হিমাগার স্থাপন বিষয়ে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আমচাষিদের দুর্ভোগ কমে আসবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির জন্যও আম প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তে আম পাঠানো শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরায় এ বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৩৫০টি বাগানে ১২ হাজার ৩০০ চাষি আম চাষ করেছেন। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার টন। এগুলো প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় বিক্রি হতে পারে।
আমের মৌসুম শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আম ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন বলেন, দেশে সব জেলার আগে সাতক্ষীরার আম বাজারে আসে। স্বাদ-গুণেও এটি সেরা। এজন্য ক্রেতার আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশি।
এদিকে রাজশাহী অঞ্চলের আম গবেষক মাহাবুব সিদ্দিকী বলেন, গোবিন্দভোগ ১০ মে পরিপক্ব হয়। এর পর থেকে নামানো যায়। এটিই সবচেয়ে আগাম। কিন্তু সাতক্ষীরার চাষিরা এই আম গতকাল (৫ মে) থেকে নামাচ্ছেন। এটির সঙ্গে সুযোগ নিয়ে গোপালভোগ এবং গোলাপখাসও নামাচ্ছেন। বাস্তবতা হলো, গোপালভোগ ২৫ মের আগে পরিপক্ব হয় না। গোলাপখাস ১৫ মের আগে পাকবে না। সাতক্ষীরার অসাধু ব্যবসায়ীরা এই আমগুলো আগাম নামিয়ে কার্বাইড দিয়ে পাকাবে। এরপর তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকা, রংপুর এলাকায় পাঠাবে। এটি প্রতারণা।
তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরার চাষিরা হয়তো বলবেন, রাজশাহীর আবহাওয়া আর সাতক্ষীরার আবহাওয়ায় পার্থক্য আছে। আমি বলছি, অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের যে হেরফের, তা খুব বেশি হলে ৫ দিন। সেই হিসাবে রাজশাহীর ৫ দিন আগে সাতক্ষীরার আম পরিপক্ব হবে; সাত দিন আগেও নয়।
- বিষয় :
- ফল
- আম
- গোপালভোগ
- গোবিন্দভোগ
- সাতক্ষীরা
