ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নভেরা আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নভেরা আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
×

নভেরা আহমেদ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ২১:০৬

বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের এই দিনে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিনি  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম, সাহসী অবস্থান এবং শিল্পভাবনা আজও দেশের শিল্পাঙ্গনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

নভেরা আহমেদ শুধু একজন ভাস্কর ছিলেন না, বরং পঞ্চাশের দশকের রক্ষণশীল সমাজে তিনি ছিলেন এক সাহসী বিদ্রোহী কণ্ঠ। ১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী লন্ডনের লন্ডনের ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস থেকে ভাস্কর্যে ডিপ্লোমা অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন। সে সময় এ অঞ্চলে ভাস্কর্যচর্চা যেমন সীমিত ছিল, তেমনি একজন নারীর এই মাধ্যমে কাজ করাও ছিল বিরল ঘটনা।

সমাজের নানা বাধা উপেক্ষা করে তিনি পাথর, কাঠ ও কাদামাটিতে নির্মাণ করেন অনন্য ভাস্কর্য। তাঁর কাজে লোকজ ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য আধুনিকতার মেলবন্ধন দেখা যায়। নারীসত্তা, মাতৃত্ব ও গ্রামীণ জীবনের নানা দিক তাঁর শিল্পে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ১৯৬০ সালে ঢাকায় তাঁর প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী সেই সময়ের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল।

নভেরা আহমেদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কেন্দীয় শহীদ মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন। শিল্পী হামিদুর রহমানের সঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নকশা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন তাঁর এই অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা ও প্রতিকূলতার কারণে তিনি দেশত্যাগ করে প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটানোর পর ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। পরবর্তীতে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকেও সম্মানিত করা হয়।

বর্তমানে দেশে ভাস্কর্যচর্চায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও নানা সামাজিক বাধা এখনো বিদ্যমান। তবুও নতুন প্রজন্মের নারী ভাস্কররা নিজেদের অবস্থান তৈরি করে চলেছেন, যা নভেরা আহমেদের পথপ্রদর্শনেরই ধারাবাহিকতা।

নভেরা আহমেদ তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে শুধু নান্দনিক সৃষ্টি করেননি, বরং ভেঙেছেন সমাজের সংকীর্ণতা। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও প্রমাণ করে—শিল্পীর পরিচয় তাঁর সৃষ্টিতে।

আরও পড়ুন

×