মুক্তিযোদ্ধা হারুন হত্যার আসামিকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনল পিবিআই
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ | ২২:৩০
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার তিন বছর পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে বুধবার তাকে দেশে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার পিবিআই সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশে আনার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ বাসায় হারুন অর রশিদ খানকে গুলি করা হয়। প্রথমে তাকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর একই বছরের ১৩ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ১ মে দেশে ফেরানো হলেও ৭ মে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩১ মে মারা যান তিনি।
এদিকে গুলির ঘটনার দুই দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে ২০২৩ সালের ২৩ জুন মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই।
তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ চারজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে ইন্টারপোলের সহায়তায় মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মহসিন আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য দেন।
পিবিআই জানায়, তদন্তে আরিফ সরকারের সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান শনাক্তে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করা হয়। পরে দুবাইয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত হলে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেওয়া হয়। পাশপাশি ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। সর্বশেষ ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেপ্তার করলে পিবিআই ও পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।
