রাজনীতিকে তরুণদের ভাষায় তুলে ধরতে হবে: মান্না
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৭:০২ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ১৯:০২
দেশে বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য ভাষায় তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসকে তরুণদের বোধগম্য ভাষায় অনুবাদ করতে না পারলে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে গণতন্ত্রী পার্টি আয়োজিত ‘শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্না এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আদর্শিক লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে। তরুণদের কাছে রাজনীতিকে অর্থবহ করে তুলতে না পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ক্ষুদ্র স্বার্থ ও ব্যক্তিগত ঈর্ষা আন্দোলনের শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা সরকারি পদ-পদবির প্রত্যাশা না করে আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন। তাদের রাজনৈতিক সততা বর্তমান প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, জনগণের বাস্তব জীবনসংগ্রাম ও চাহিদাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে। মানুষের অধিকার, জীবিকা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে একটি বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকার গঠন আগামীতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ও বিজেপি যদি বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা অব্যাহত রাখে এবং তাদের কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা চালায়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গুরুতর অবনতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মার্কিনীদের দিকে ঝুঁকে পড়ার শঙ্কাও বেড়ে যাবে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তির পর এখন মার্কিনীদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক আঁতাতে যুক্ত করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার। সঞ্চালনা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন। বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভর্তুকি, কর ফাঁকি রোধ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সভায় নেতৃবৃন্দ মতভেদ ভুলে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে দেশের সব সৎ, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ জোট গঠনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহিল কাফি রতন, বাসদ নেতা কমরেড খালেকুজ্জামান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, ন্যাপ নেতা পার্থ চক্রবর্তী, বিশেষ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা নেতা খান সিদ্দিক, সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গণি, কমল ঘোষ, এনামুল হক চৌধুরী আলমাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সিরাজুল ইসলাম জামান ও শফি রেজা নূর মজুমদার, মানিক লাল দাস প্রমুখ।
