ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা 

লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা 
×

জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১১:৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টির বসন্তকালীন সমাবর্তনে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মায়ামির বাংলাদেশ কনস‍্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে লিমন ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী আয়োজিত ‘স্প্রিং ২০২৬’ সমাবর্তনে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই দুই শিক্ষার্থীকেও ডিগ্রি দেওয়া হয়। লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার সকালে ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদানের মূল অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানে অনুষ্ঠানস্থলে দুটি খালি চেয়ার নির্ধারিত পোশাকে (রেগালিয়া) সজ্জিত করে রাখা হয়। এ বছর ৩৯৩ জন ডক্টরাল ডিগ্রিধারীর তালিকায় এই দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আজ শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সকাল ৯ টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। এ সময় বিমানবন্দরে বৃষ্টির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মরদেহ গ্রহণের পর তা মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, নাহিদা বৃষ্টি প্রায় ৯ মাস আগে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ১৭ এপ্রিল তার এক বন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানোর পর স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা জানতে পারেন, বৃষ্টি নিহত হয়েছেন।

বৃষ্টির মামা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, “মরদেহ পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষায় মরদেহ শনাক্ত করার পর সেটি দেশে পাঠানো হয়েছে।”

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি দেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল থোয়িং এ প্রক্রিয়া তদারক করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিস বৃষ্টির মরদেহ শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। গত বুধবার টাম্পা বে এরিয়ার একটি মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×