যুদ্ধ শুরু হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাই প্রথম শিকার হয়: ডন সম্পাদক
জাফর আব্বাস। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১৭:৪৮
পাকিস্তানের দৈনিক ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাই প্রথম শিকার হয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে কেউই এমন কিছু লিখতে চায় না, যা জাতীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে যায়।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকেলের এক আলোচনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, যুদ্ধকালীন জাতীয়তাবাদ, আর্থিক চাপ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ।
‘স্পিকিং ট্রুথ টু পাওয়ার: আ স্টোরি অব ইন্ডিপেনডেন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক আলোচনা সেশনটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক কামাল আহমেদ।
জাফর আব্বাস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মতো সমাজে সংবাদপত্র এখনো দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ, এই অঞ্চলের সমাজ এখনো পুরোপুরি ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে ওঠেনি। তার ভাষায়, ‘আমাদের সমাজগুলো আধা-প্রচলিত ধাঁচের। তাই টেলিভিশন এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদ ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। তবে সেখানেও মূলধারার সংবাদপত্র এখনো যথেষ্ট প্রভাবশালী। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তন এলেও সেটি হবে সময়সাপেক্ষ।
সংবাদমাধ্যমের ওপর আর্থিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক সংবাদমাধ্যম নীতিগতভাবে এত কঠোর অবস্থানে থাকে যে সেটি কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। কর্মীদের টিকিয়ে রাখতে ভবিষ্যতে কিছু সমন্বয় বা ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক ভূমিকা বদলাবে না বলে মনে করেন জাফর আব্বাস। তার মতে, ভবিষ্যতে ওয়েবভিত্তিক সাংবাদিকতাও অভিজ্ঞ প্রতিবেদক ও দক্ষ সংবাদ ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হলেও এর মূল বিষয়বস্তু আসবে পেশাদার সাংবাদিকদের কাছ থেকেই।
ধর্মীয় ডানপন্থী গোষ্ঠীর সমালোচনাও করে আব্বাস বলেন, উদারপন্থী অবস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলার কারণে তাদের সংবাদপত্র প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র হওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে পাঠকসংখ্যা সীমিত থাকায় এক ধরনের সুরক্ষাও তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধকালীন সাংবাদিকতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতের সময় প্রকৃত তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষের কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোন বিমান ভূপাতিত হয়েছে বা কত সেনা নিহত হয়েছে— এসব তথ্য মূলত সরকার বা সামরিক বাহিনীর সূত্রের ওপর নির্ভর করেই প্রকাশ করতে হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা কাজ করে। রয়টার্সও অনেক সময় দিল্লি ও ইসলামাবাদ থেকে প্রাপ্ত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে।
জাফর আব্বাসের মতে, সময়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আফগানিস্তান ইস্যুতে এখন পাকিস্তানি নীতির সমালোচনামূলক লেখাও প্রকাশিত হয়, যা দুই দশক আগেও তেমন দেখা যেত না। তবে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে সংবাদমাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয়তাবাদী অবস্থান তৈরি হয় এবং তখন সরকারকে আলাদা করে চাপ প্রয়োগ করতে হয় না।
- বিষয় :
- যুদ্ধ
- সংবাদমাধ্যম
- স্বাধীনতা
