ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জরিপে তথ্য: প্রাপ্তবয়স্কদের ১৭ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত

জরিপে তথ্য: প্রাপ্তবয়স্কদের ১৭ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৩৭ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৭

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৭ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ কোনো চিকিৎসা নেন না। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে চালানো ২০১৮-১৯ সালের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের কনভেনশন হলে এ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এতে আর্থিক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

জরিপ পরিচালনার জন্য চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ৭ হাজার ২৭০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুই হাজার ২৪৬ জন শিশুর ডাটা সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছরের ওপরে এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশ কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এ সমস্যায় ভুগছে। তাদের ৯৪ শতাংশ কোনো ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যে ৮ শতাংশ চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ মানসিক অবসাদজনিত এবং শিশুদের মধ্যে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ স্নায়বিক মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মধ্যে মানসিক রোগের বিস্তারের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহস্থালি কাজে যুক্তদের মধ্যে মানসিক সমস্যায় সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ আক্রান্ত। এরপর পর্যায়ক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত ৯ দশমিক ৬ শতাংশ, কৃষিকাজে থাকা ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, শ্রমিকদের মধ্যে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ৫ দশমিক ২ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।

জরিপে নগর ও গ্রামের তুলনা করে বলা হয়, ১৮ থেকে ২৯ বছর বসয়ী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নগরে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ; ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে নগরে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গ্রামে ২২ দশমিক ১ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। আবার ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে নগরে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গ্রামে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ; ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে নগরে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গ্রামে ১২ দশমিক ২ শতাংশ; ৬০ বছরের ওপরে নগরে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গ্রামে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রেজওয়ানুল শামীম, ডা. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে।

ডা. মোহিত কামাল পাঠ্যপুস্তকে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, এতে শিশুরা আগে থেকে এ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বুঝবে। একই সঙ্গে নিজেকে প্রস্তুত করারও সময় পাবে।


আরও পড়ুন

×