অক্সিজেন মাস্ক খুলে হাসপাতাল বদলের সময় শিশুর মৃত্যু, অভিযোগ ঢামেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৬:৪৭
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সময় সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মচারীকে আটক করে পুলিশে দেন স্বজনরা। তবে পরে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় ওই কর্মচারীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুর নাম হাসিব আহমেদ মিনহাজ। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামে। বাবা হেলাল মিয়া গাজীপুরে সোনার দোকানের কর্মচারী এবং মা মেঘলা খাতুন পোশাক কারখানার শ্রমিক।
শিশুটির বাবা হেলাল মিয়া জানান, অসুস্থ মিনহাজকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকায় শিশু হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশু ওয়ার্ডে খোঁজ নিতে বললে সেখানে কর্মচারী এনায়েত করিমের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি ওয়ার্ডে বেড খালি নেই জানিয়ে কাঁটাবনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুটিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলেও জানান।
হেলাল মিয়া বলেন, ‘আগের চিকিৎসকরা বলে দিয়েছিলেন, দুই মিনিটের জন্যও শিশুর অক্সিজেন মাস্ক খোলা যাবে না। কিন্তু ওই কর্মচারী মাস্ক খুলে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার কথা বলে প্রায় আধাঘণ্টা ঘোরাঘুরি করেন। পরে হাসপাতালের ২ নম্বর ভবনের গেট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় বুঝতে পারি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।’
এ সময় কান্নাকাটির মধ্যে অভিযুক্ত কর্মচারী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করেন স্বজন।
শিশুটির মামা রিপন বলেন, রংপুর মেডিকেলে মিনহাজের কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। আমাদের সাত মাসের শিশুকে একপ্রকার হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক রাতে সমকালকে বলেন, এ ঘটনায় এনায়েত করিম নামে হাসপাতালের এক কর্মচারীকে আটক রাখা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা বললেও পরে আর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দিতে রাজি হননি। ফলে আটক কর্মচারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই কর্মচারীর দাবি, ঢামেক হাসপাতালে সিট না থাকায় তিনি পাশের দুটি হাসপাতালের যেকোনো একটিতে শিশুটিকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
