ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নাট্যলোকের এক নক্ষত্রের নিঃশব্দ বিদায়

আতাউর রহমানকে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা

নাট্যলোকের  এক নক্ষত্রের  নিঃশব্দ বিদায়
×

নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ বিদায় জানান নাটক, সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের মানুষ। নাট্যাঙ্গনের সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীর উপস্থিতিতে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৮:০৯ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১৪:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

মঞ্চের আলো নিভে গেলে যেমন আঁধার নামে, তেমনি এক শূন্যতার আবহে বিদায় নিলেন দেশের নাট্যাঙ্গনের প্রিয় মুখ আতাউর রহমান। জীবনের শেষ প্রহরে যে মানুষটি নিঃসঙ্গতার কথা বলতেন; বিদায়ের দিনে তাঁকে ঘিরে ছিল অগণিত মানুষের ভালোবাসার ঢেউ; চোখের আঙিনায় অশ্রু আর খণ্ড খণ্ড সুখস্মৃতি।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের মরদেহ গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন নাটক, সংস্কৃতি ও শিল্পাঙ্গনের বিশিষ্টজন। নাট্যাঙ্গনের সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীর উপস্থিতিতে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

তাঁকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন লাকী ইনাম, রামেন্দু মজুমদার, লাইসা আহমেদ লিসা, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, তারিক আনাম খান, খায়রুল আনাম শাকিল, মফিদুল হক, আসিফ মুনীর, শংকর সাঁওজাল, সারা জাকের, আজাদ আবুল কালাম, জিতু আহসান, রওনক হাসান, পার্থ তানভির নভেদ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, মোসাদ্দেক হোসেন মান্না, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, নাসিরুল হক খোকন, তামান্না রহমান, আমিনুর রহমান মুকুল, কাওসার চৌধুরীসহ অনেকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের তরফে তাঁকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। কণ্ঠশীলন, ছায়ানট, উদীচী, ঢাকা থিয়েটার, প্রাচ্যনাট, পদাতিক নাট্য সংসদ, নাট্যদল বটতলা, আবদুল্লাহ আল-মামুন থিয়েটার স্কুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্পী সংসদসহ নানা সংগঠনের অংশগ্রহণে শহীদ মিনার পরিণত হয় এক সম্মিলিত শ্রদ্ধার মঞ্চে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সবাই ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে গাওয়া হয় ‘ধন্যধান্য পুষ্পভরা’ গান.  যা মুহূর্তটিকে আরও আবেগময় করে তোলে।

এ সময় আতাউর রহমানের মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান বলেন, জীবনের শেষ সময়ে আমার বাবা একাকিত্বে ভুগছিলেন। থিয়েটারকে ভীষণ মিস করতেন। 
লেখক-গবেষক মফিদুল হক বলেন, আতাউর রহমানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক স্বাধীনতারও আগে; ১৯৬৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। তখন আমরা সংস্কৃতি সংসদের নানা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মঞ্চের প্রতি আতাউর রহমানের ভালোবাসা ছিল জন্মগত। পেশাগত জীবনে তিনি বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল নাটক। 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে বাদ জোহর মগবাজারের ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে খোলা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব।
 

আরও পড়ুন

×