সবজি, ডিম, তেল সবকিছুর দাম চড়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:৩৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ১১:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পেঁয়াজের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত দুই দিনে মসলা জাতীয় পণ্যটির দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত পাঁচ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এদিকে সবজি বাজারে অস্বস্তি বাড়ছে। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সবজির বাজার চড়া হওয়ায় ডিমের চাহিদা ও দাম বেড়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর হাতিরপুল, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুচরা বাজারে গতকাল দেশি ভালো মানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। দুদিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। তবে মহল্লার দোকানে কোথাও কোথাও ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেই হিসাবে কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। এ ছাড়া হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। দুই-তিন দিন আগে এই পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় কেনা গেছে। বাজারভেদে দেশি রসুনের কেজি ৭০ থেকে ১২০ এবং আমদানি করা বড় আকারের রসুন ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তেজকুনিপাড়ার চাঁদপুর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল সমকালকে বলেন, পাইকারি পর্যায়ে দুদিন ধরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে তিন-চার টাকা বাড়ছে। এ কারণে খুচরায় বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, হঠাৎ শ্যামবাজারে দাম বেড়েছে। এ কারণে তারাও কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
ডিমের বাজারে পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহের মতোই ফার্মের বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। সাদা রঙের ডিম প্রতি ডজন কেনা যাচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লা থেকে এক হালি হিসাবে কিনতে গেলে ৫০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। মুরগির দরেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লারের কেজি ১৭৫ থেকে ১৮৫ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দর ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে বাজারে এই দরে এখনও খোলা ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৯২ থেকে ১৯৫ এবং পাম অয়েল ১৭৮ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম কমছে না । বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৯০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই সবজির দাম বেড়ে যায়। কারণ, আড়তে সবজির গাড়ি কম আসে। ব্যাপারীরা দাম বাড়ালে খুচরা বাজারেও বাড়ে।’ তাঁর ভাষ্য, এখন সবজির মৌসুম নয়। গ্রীষ্মকালীন কিছু সবজি উৎপাদন হয়, কিন্তু পরিমাণে খুব বেশি নয়।
এ ছাড়া চাল, ডাল, আটা, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।
- বিষয় :
- বাজারদর
- সবজি
- দাম বৃদ্ধি
