জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য
দেশে ফিরে হুজির ৩৩ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আতিকুল্লাহ
আতাউর রহমান
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:০৮
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ অব বাংলাদেশ (হুজিবি) শীর্ষ জঙ্গি
নেতা আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার দেশে ফিরেই হুজির অন্তত ৩৩
পুরনো নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই নেতাদের মধ্যে অনেকে এখন নিজেদের পরিচয়
গোপন করে কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, আবার কেউ
সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। জঙ্গি আতিকুল্লাহ তাদের নিয়ে নতুন করে
সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছিলেন।
গত বুধবার ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে দুর্ধর্ষ ওই জঙ্গিকে তিন সহযোগীসহ
গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাদের চার দিন করে রিমান্ডে নেয় ডিএমপির জঙ্গি
দমন ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
গতকাল শুক্রবার প্রথম দিনেই আতিকুল্লাহ বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন
বলে সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, তাদের কাছে তথ্য
ছিল যে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি আতিকুল্লাহ বহু বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে
দুবাইয়ে বসবাস করে আসছিলেন। গত মার্চে তিনি সাংগঠনিক কাজেই দেশে ফেরেন।
এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হুজিবির পুরনো নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তাদের প্রায় সবাই আফগানিস্তানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হুজির
পুরনো অন্তত ৩৩ জনের সঙ্গে আতিকুল্লাহ বৈঠক করেন। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত
খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে হুজির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই জঙ্গি
বর্তমানে সংগঠনটির আন্তর্জাতিক শাখার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। ধারণা করা
হচ্ছে, এই কারণে তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ থাকতে
পারে।
সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, আতিকুল্লাহ বিদেশে বসে এতদিন হুজির পুরনো সদস্যদের
বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলোর খরচ চালিয়ে আসছিলেন। হুজির সদস্য অনেক দরিদ্র
পরিবারকে আর্থিক সুবিধাও দিয়ে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও নিজেদের অন্তত দুটি এনজিওর মাধ্যমে
টাকা পাঠাচ্ছিলেন আতিকুল্লাহ। এনজিওর আড়ালে রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদে নেওয়ার
পাঁয়তারাও করছিলেন তিনি। তবে ওই এনজিওর নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে
সূত্র।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জঙ্গি
আতিকুল্লাহ ও তার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া অপর দুই জঙ্গি বোরহান উদ্দিন
রাব্বানী ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ওরফে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই
মধ্যে তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য মিলেছে। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
জঙ্গি দমনে যুক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রেফতার
আতিকুল্লাহ পাকিস্তানে পড়ালেখা করেছেন। নব্বই দশকে বাংলাদেশ থেকে যাদের
নেতৃত্বে একটি গ্রুপ আফগানিস্তানে যুদ্ধে গিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম নেতা
ছিলেন আতিকুল্লাহ। তার নেতৃত্বে অন্তত ১০০ 'মুজাহিদ' আফগানিস্তানে যুদ্ধে
অংশ নেয়। দুর্ধর্ষ এই জঙ্গি একে-৪৭ থেকে শুরু করে ভারী অস্ত্র চালানোয় বেশ
পারদর্শী। এ ছাড়া বিস্ম্ফোরক বিশেষজ্ঞ হিসেবেও হুজিতে তিনি পরিচিত ছিলেন।
আফগান যুদ্ধ শেষে তিনি ভারী অস্ত্র নিয়ে দেশে ঢুকেছিলেন। আফগানিস্তানে
যুদ্ধের সময়ে মোল্লা ওমর এবং ওসামা বিন লাদেনের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি
নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে তার।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুল্লাহ
জানিয়েছেন ঝিমিয়ে পড়া হুজি সদস্যদের চাঙ্গা করার মিশন নিয়ে তিনি বাংলাদেশে
এসেছিলেন। দেশে এই পর্যন্ত কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কী পরিকল্পনা
করেছেন- এসব বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশে কোনো
নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি-না- তাও জানার চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- আতিকুল্লাহ
