খায়রুল হকের জামিন বহাল, আইনি প্রক্রিয়ার কারণে মিলছে না মুক্তি
ফাইল ছবি।
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ২২:৩৯
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না ৮২ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধান বিচারপতি। অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত খায়রুল হক কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাজু।
এর আগে হাই কোর্টের আদেশের বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানি শেষে গতকাল বুধবার ‘নো অর্ডার’ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক। এর ফলে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশই বহাল থাকল।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি শেষে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সমকালকে বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের যে দুটি মামলায় ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়েছিল, তা বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যখন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে যায়, তখন সরকারপক্ষের সেই আবেদনে আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। অর্থাৎ হাই কোর্টের জামিন বহাল রেখেছেন।’ এর ফলে তিনি পৃথক সাত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলেও তার মুক্তি মিলছে না।
তিনি বলেন, ‘আজ উনার দুটি মামলার আদেশ হয়েছে। এর একটি হলো আদাবর থানার হত্যা মামলা আর অপরটি যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী হত্যা মামলায় এফআইআরে উনার নাম ছিল না। তবে আদাবরের মামলায় এফআইআরে নাম ছিল। আগের পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার এই দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।’
গত ১২ মে হাই কোর্ট এই দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়।
একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের মামলা। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।
একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও জামিন পান। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। খায়রুল হক বর্তমানে কারাগারে আছেন।
