ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

মৃৎশিল্প

পোড়ামাটির শরীরে বাংলার স্মৃতি

পোড়ামাটির শরীরে বাংলার স্মৃতি
×

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে মাটির তৈরি নানা বাসন - সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৮:৩৩ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যালারির ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাটির কলস, কোথাও রংতুলিতে চিত্রিত হাঁড়ি আবার কোথাও ছোট্ট মাটির ঘোড়া কিংবা পুতুল। দর্শনার্থীরা ঝুঁকে নিখুঁত নকশা দেখছেন, মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ শিশুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে শুনছেন বাংলার প্রাচীন মৃৎশিল্পের গল্প। 

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়েছে উন্মুক্ত প্রদর্শনী ‘পোড়ামাটির রূপ বৈচিত্র্য’। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে গত সোমবার শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। 

নব্য প্রস্তর যুগ থেকে শুরু করে প্রাচীন জনপদের টেরাকোটা অলংকরণ, মন্দির স্থাপত্য কিংবা গ্রামীণ জীবনের ব্যবহারিক উপকরণ সবখানেই মাটির শিল্পের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। কাঁচামাটি কুম্ভকারের হাতে রূপ নেয় শিল্পে। তারপর আগুনে পুড়ে হয়ে ওঠে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। 

প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়েছে সেইসব মৃৎশিল্পের কারিগর ও শিল্পীর প্রতি, যারা নানান প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে বাংলার চিত্রিত মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন। প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অন্যান্য সিনথেটিক পণ্যের সহজলভ্যতা, কম দাম এবং ব্যাপক বাজারজাতকরণের কারণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে মাটির পণ্যের ব্যবহার। হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ কুম্ভকার সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো শিল্পচর্চা। এর প্রভাব পড়ছে  শিল্পীদের জীবিকা থেকে পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ওপরও।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের লোকজ মৃৎশিল্পের নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাববেন এবং দেশীয় কাঁচামালভিত্তিক পণ্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণে আগ্রহী হবেন। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা বিলুপ্তপ্রায় এবং এখনও ব্যবহৃত নানা ধরনের মৃৎপাত্র ও মাটির শিল্পকর্ম। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীর উপকরণগুলো কয়েকটি ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে– কুম্ভ, বহমান, চিত্রিত, আরাধনা ও খেলনা। 

লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক ইমরান উজ-জামান সারাদেশ থেকে মাটির নিদর্শন সংগ্রহ করেছেন। সেই সংগ্রহের ভিত্তিতে প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন ডা. শওকত আরা হায়দার। তাদের এই উদ্যোগ শুধু শিল্প-সংগ্রহ নয়; বরং হারিয়ে যেতে বসা এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দলিল সংরক্ষণের প্রচেষ্টাও। প্রদর্শনীতে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে থাকছে বিভিন্ন অঞ্চলের পালাগান, লোকগান ও আধ্যাত্মিক সংগীতের আয়োজন। উদ্বোধনী দিনে পরিবেশিত হয় মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের মেয়েলি গীত অবলম্বনে গীতল ‘লিলুয়া সুন্দরীর পালা’।

আরও পড়ুন

×