বদলি ও পদোন্নতির নামে প্রতারণা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ২১:৪১
স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল একটি চক্র। বুধবার রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন– স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ অধিশাখার এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নিলুফা সুলতানা ও এম আমিনুর রহমান শান্ত।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২০ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তাতে বলা হয়, একটি চক্র বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির কথা বলে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন। পরে ডিবির সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনুসন্ধান শুরু করে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তারা নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। এ জন্য তারা বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনেরও চেষ্টা করতেন।
ডিবিপ্রধান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম রামপুরা থেকে চক্রের হোতা আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ করা হয়। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নিলুফা সুলতানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে ২০-২২ পৃষ্ঠার মতো কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যায়, তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কোথায় পদায়ন করলে কত টাকা দিতে হবে, এ ধরনের কথাবার্তা রয়েছে।
