ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

প্রতিবন্ধিতা শনাক্তের বয়স ৫ বছর থেকে কমে ৮ মাস

প্রতিবন্ধিতা শনাক্তের বয়স ৫ বছর থেকে কমে ৮ মাস
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৯:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা মডেল ‘শিশু স্বর্গ’ (জনকল্যাণমুখী পরীক্ষামূলক প্রকল্প) বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। সরকার বলছে, গত দুই দশকের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তের গড় বয়স ৫ বছর থেকে কমে ৮ মাসে নেমে এসেছে। এতে খুব কম বয়সেই প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের (ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি) ফাঁকে উচ্চ পর্যায়ের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার মডেলটি উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। জেনেভার একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ২০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ ৪০ জনের বেশি অংশ নেন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ডা. মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতা কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও পরিবেশগত বাধার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো শিশু চোখে দেখতে বা কানে শুনতে না পারলেও সমাজ যদি তাকে প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি যেমন চশমা বা শ্রবণযন্ত্র দিতে পারে, তাহলে তার সক্ষমতা অনেকটাই ফিরে আসে। সময়মতো সহায়তা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধিতাজনিত সংকট অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘শিশু স্বর্গ’ মডেলটি শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের বিকাশগত সমস্যা খুব অল্প বয়সে শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে এমন পরিবারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে। এ বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে সরকার দেশব্যাপী ‘শিশু স্বর্গ’ মডেল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
ডা. মুহিত বলেন, এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ছয় স্তরের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। 
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু চিকিৎসা-সংক্রান্ত উদ্যোগ 
নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার একটি বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলন।
মূল বক্তব্যের পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. হুবার্ট ভুয়াগনাত, ড. সারাহ কলিনসন, মালিক মুহাম্মদ সাফি এবং ডেনিস শ্রোয়েডার। সমাপনী বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

আরও পড়ুন

×