ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুলেল শ্রদ্ধায় বিদ্রোহী কবিকে স্মরণ

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী

ফুলেল শ্রদ্ধায় বিদ্রোহী কবিকে স্মরণ
×

মো. সাখাওয়াত হোসেন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১০:০৭ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ | ১০:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে গতকাল সোমবার তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ। সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন সমাধি এলাকায় ছিল মানুষের ঢল। ফুল হাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এলাকাটি পরিণত হয় আবেগঘন মিলনমেলায়।
শ্রদ্ধা, স্মরণ আর কবির চেতনা ধারণের প্রত্যয়ে দিনভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা সমাধিসৌধে পৌঁছায়। পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সমাধিপ্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। 

স্মরণসভায় উপাচার্য বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবিই নন, তিনি সাম্য, মানবতা, প্রেম ও শান্তির কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের গভীর চর্চা নতুন প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ অন্যরা। এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা উপস্থাপন করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, নজরুলকে পাঠ্যবইয়ের সীমিত কয়েকটি কবিতার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে তাঁর পূর্ণ জীবন ও দর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি নজরুলের রচনাবলি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কবির জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি গণআন্দোলন ও সংকটে নজরুলের গান ও কবিতা মানুষকে সাহস জুগিয়েছে। বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে ধারণ করেই তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছেন। তিনি ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময় ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের গান মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থেকেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতেও তরুণদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে তাঁর গান ও কবিতা।
দিনভর নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, নজরুল একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, উদীচী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাসদ, জাসাস, ডাকসু, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। কেউ ফুল হাতে, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ তাঁর রচনা আবৃত্তি করে কবিকে স্মরণ করেন।

আরও পড়ুন

×