ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী বিদ্যুতের লাইন, বিদ্যুৎহীন লাখো গ্রাহক

ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী বিদ্যুতের লাইন, বিদ্যুৎহীন লাখো গ্রাহক
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১৬:৫৩ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ১৭:৩৭

দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির তাণ্ডবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে যাওয়া, খুঁটি হেলে পড়া, লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং উপকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের অর্ধেকের বেশি জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন লাখো গ্রাহক।

আরইবি সূত্র জানিয়েছে, ২৬ মে দিনভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে পল্লী বিদ্যুতের বিতরণ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- নরসিংদী পিবিএস-২, নারায়ণগঞ্জ পিবিএস-২, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ পিবিএস-১, ২ ও ৩ এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক স্থানে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। একই সময়ে শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী পিবিএস-১ ও ২, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রাম পিবিএস-৩ এলাকায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কুমিল্লা অঞ্চলের চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। একই ধরনের ভোগান্তি দেখা যায় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকাতেও।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুষ্টিয়া পিবিএস-১ ও ২, যশোর পিবিএস-১ ও ২, মাগুরা, খুলনা, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাট এলাকায় ঝড়ের কারণে বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বহু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে লাইন মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়।

বরিশাল অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে নাজুক। ভোলা ছাড়া বরিশাল পিবিএস-১ ও ২, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির প্রায় পুরো এলাকাই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেন, বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকিতে পড়ে।

আরইবি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং নয়। ঝড়-বৃষ্টির কারণে স্থানীয় বিতরণ লাইনে যেসব ত্রুটি তৈরি হয়েছে, সেগুলোর কারণেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল রাতভর কাজ করেছে।

এদিকে আরইবির কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের মধ্যেও জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। ২৬ মে রাত ১২টায় আরইবি এলাকায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৭ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট। ওই সময় শুধু খুলনা অঞ্চলে ৪৪ মেগাওয়াটের সামান্য ঘাটতি ছিল।

পরদিন দুপুরে বৃষ্টি ও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দুপুর ১২টায় চাহিদা নেমে আসে ৩ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াটে এবং পুরো চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হয়। পরে বিকেল ৩টায় চাহিদা বেড়ে ৪ হাজার ৪৫৯ মেগাওয়াটে দাঁড়ালেও পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ায় এখন থেকেই বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে এমন বিভ্রাট আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

×