জ্বালানি তেল ও এলপিজি
এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব জুনেও কাটেনি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাস শেষ হলেই সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে শুরু হয় একই হিসাব– এবার জ্বালানির দাম বাড়ল নাকি কমলো? রান্নার গ্যাস আর যাতায়াতের জ্বালানি নিয়ে এই অনিশ্চয়তাই এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। বছরের শুরুতে সামান্য দামের কমতিতে যে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছিল, এপ্রিল মাসে এসে তা এক ধাক্কায় উল্টে যায়। এর পর জুন পর্যন্ত সেই চাপ আর পুরোপুরি কমেনি, বরং বাড়তি চাপই বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাকে।
বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ছিল। তখন ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১১৮ টাকা এবং অকটেন ১২২ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।
ফেব্রুয়ারিতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলে লিটারপ্রতি দুই টাকা করে দাম কমায়। মার্চ মাসে সেই দামই অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বাজারে এক ধরনের স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী।
এপ্রিল মাসে এসে জ্বালানি বাজারে ঘটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। একসঙ্গে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অকটেনে লিটারে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা, ডিজেলে ১৫ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। বছরের শুরুতে যে সামান্য কমতি ছিল, এপ্রিলের এই বড় ধাক্কায় তা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যায়।
মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে আবার নতুন চাপ তৈরি হয়। এবার ডিজেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনে লিটারপ্রতি আরও পাঁচ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়। জুনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ, বছরের শুরুতে যে অকটেন ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, তা এখন কিনতে হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে বাড়তি খরচ দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা।
এলপিজির বাজারেও চিত্র খুব একটা আলাদা নয়। বছরের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে সামান্য সমন্বয়ের (১৫ টাকা হ্রাস) পর মার্চে তা স্থিতিশীল থাকে এক হাজার ৩৪১ টাকায়। কিন্তু এপ্রিল মাসে দুই দফায় একসঙ্গে ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়, যা রেকর্ড। মে মাসে সেই উচ্চ মূল্যই বহাল থাকে।
চলতি মাসে অবশ্য ৫৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দাম নেমে এসেছে এক হাজার ৮৮৫ টাকায়। তবে এই সামান্য কমতির পরও ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৫৪৪ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাকে।
জ্বালানিতে বছরের শুরুর স্বস্তি এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের বড় মূল্যবৃদ্ধি পুরো বছরের হিসাব বদলে দিয়েছে। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজার সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই অসামঞ্জস্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ। মাস শেষে জ্বালানি খরচের এই ওঠানামা এখন তাদের কাছে আর শুধু হিসাব নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি মানসিক ও আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- বিষয় :
- এলপিজি
