ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

আয়োডিন ঘাটতিজনিত থাইরয়েড রোগ

আয়োডিন ঘাটতিজনিত থাইরয়েড রোগ
×

 ডা. শাহজাদা সেলিম

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

আয়োডিন একটি অপরিহার্য ক্ষুদ্র খনিজ উপাদান, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই হরমোনগুলো মানবদেহের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে গর্ভকাল ও শৈশবে মস্তিষ্ক এবং শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োডিনের ঘাটতির ফলে যে রোগ হয়, সেগুলোকে সম্মিলিতভাবে আয়োডিন ঘাটতিজনিত থাইরয়েড রোগ বলা হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

বিশ্ব পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এক সময় বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ আয়োডিন ঘাটতির ঝুঁকিতে ছিল। যদিও গত কয়েক দশকে ইউনিভার্সাল সল্ট আয়োডাইজেশন কর্মসূচির ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, তবুও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও কিছু ইউরোপীয় দেশে আয়োডিন ঘাটতি এখনও বিদ্যমান। আয়োডিন ঘাটতির ফলে গয়টার, হাইপোথাইরয়েডিজম, গর্ভপাত, মৃতভ্রূণ, জন্মগত ত্রুটি এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে আয়োডিন ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ১৯৯৪ সালে বাধ্যতামূলক আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আইন প্রণয়ন করা হলেও এখনও শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত হয়নি। গ্রামাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীতে আয়োডিন ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে শিশুর শেখার সমস্যা, নারীর বন্ধ্যত্ব ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গয়টার দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগ নীরবে অগ্রসর হয় বলে দেরিতে শনাক্ত হয়।

এই সমস্যায় আমাদের করণীয়
প্রথমত, আয়োডিনযুক্ত প্যাকেটজাত লবণের সর্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। খোলা বা শিল্প লবণ ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, লবণ ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখতে হবে এবং রান্না শেষে লবণ যোগ করলে আয়োডিন নষ্ট কম হয়। তৃতীয়ত, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী এবং শিশুর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। চতুর্থ, লবণ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে আইন প্রয়োগ ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। পঞ্চম, স্কুল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু রাখা প্রয়োজন।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×