মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টা শিক্ষককে জনতার পিটুনি
গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার সাঘাটায় এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার বোনারপাড়ার জামিয়া কারমিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুর রহমানের ভাষ্য, মাদ্রাসাশিক্ষক রবিউল ইসলাম গতকাল সকালে ছেলেটিকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। তারা হাতেনাতে ওই শিক্ষককে ধরে পিটুনি দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
জানা গেছে, গাইবান্ধা সদরের পুলিশ লাইন্স এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম প্রায় এক মাস আগে মাদ্রাসাটিতে যোগ দেন। তিনি সংবাদ কর্মীদের কাছে ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার করেন।
সাঘাটা থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর দাদা মামলা করেছেন।
হাসপাতালে ধর্ষণ
লক্ষ্মীপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কক্ষে ডেকে নিয়ে এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুকে (১১) যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রিমন (২৮) নামের এক ওয়ার্ডবয়কে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার শহরের আল-মানার হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সদস্যরা জানায়, ছেলেটি স্বভাবে সহজ-সরল। হাসপাতালে প্রায়ই যেত সে। কখনও টেলিভিশন দেখতো, কখনও পরিচিতদের সঙ্গে গল্প করত। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গেলে ওয়ার্ডবয় তাঁকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর ওপর নির্যাতন চালায়।
ছেলেটির মা বলেন, ‘ঘটনার পর আমার ছেলে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তাঁর বন্ধুদের কাছে ঘটনাটি বলে। সেখান থেকেই আমরা বিষয়টি জানতে পারি।’
সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত গতকাল বলেন, হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর রাতে ওয়ার্ডবয়কে আটক করা হয়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, কিশোর গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীতে আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা পাংশা থানায় মামলা করেন। রাতেই পাংশা থানার পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।
মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, গত বুধবার দুপুর ৩টার দিকে বাড়ির পাশের সুপারি বাগানে তাঁর মেয়ে খেলা করছিল। ওই সময় অভিযুক্ত কিশোর আম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাশের নির্জন পুকুর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এলাকাবাসী জানায়, পুকুরে গোসল করে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী ঘটনাটি দেখে ফেলেন। তখন ওই কিশোর পালিয়ে যায়। ওই নারী শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
পাংশা থানার ওসি শেখ মঈনুল হোসেন জানান, শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁকে শিশু শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পিরোজপুরে আব্দুল গণি শিকদার (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
- বিষয় :
- পিটুনি
