ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মুরগির ক্লোয়াকায় টিকা প্রয়োগে দেড় গুণ বেশি অ্যান্টিবডি

মুরগির ক্লোয়াকায় টিকা প্রয়োগে দেড় গুণ বেশি অ্যান্টিবডি
×

শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পোলট্রি শিল্পে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে মুরগির ক্লোয়াকা-ভিত্তিক টিকাদান পদ্ধতি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) গবেষণায় জানা গেছে, প্রচলিত টিকাদান পদ্ধতির তুলনায় ক্লোয়াকায় টিকা প্রয়োগ করলে প্রায় দেড় গুণ বেশি অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন শেকৃবির অ্যানাটমি, হিস্টোলজি ও ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মাসুম। গবেষকদের মতে, গামবোরা (ইনফেকশিয়াস বারসাল ডিজিজ-আইবিডি) ও রানীক্ষেত (নিউক্যাসল ডিজিজ-এনডি) রোগের কারণে দেশের পোলট্রি খাতে প্রতিবছর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। প্রচলিত টিকাদান পদ্ধতিতে সাধারণত শরীরের নির্দিষ্ট অংশে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলেও ক্লোয়াকাল পদ্ধতিতে একই সঙ্গে সিস্টেমিক ও মিউকোসাল– উভয় ধরনের রোগ প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা যায়, মুরগির ক্লোয়াকার (মলমূত্র ত্যাগ ও জনন কাজে ব্যবহৃত অঙ্গ) ল্যামিনা প্রোপ্রিয়ায় লিম্ফ্যাটিক নোডিউল ও ডিফিউজ লিম্ফ্যাটিক টিস্যু বিদ্যমান, যেখানে বি-লিম্ফোসাইট, টি-লিম্ফোসাইট, ম্যাক্রোফেজ ও মনোসাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক কোষ থাকে। এসব কোষ টিকার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্লোয়াকা-ভিত্তিক টিকাদানের মাধ্যমে অ্যান্টিবডি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আইবিডি ও এনডি রোগ প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা। গবেষণায় ইমিউনোফ্লুরোসেন্স স্টেইনিং, ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি ও এলাইজা পরীক্ষাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। দেখা গেছে, ক্লোয়াকাল পদ্ধতিতে সিস্টেমিক ও মিউকোসাল উভয় ধরনের অ্যান্টিবডির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বারসা অব ফ্যাব্রিসিয়াসে তুলনামূলক কম ক্ষতি হওয়ায় এ পদ্ধতিকে কম সাইটোটক্সিক বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরে টিকাদানের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি বিশেষ সুবিধাজনক হতে পারে। ভেন্ট সেক্সিংয়ের সময়ই টিকা প্রয়োগ করা সম্ভব হওয়ায় অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং কমে যাবে, শ্রম ও সময় সাশ্রয় হবে এবং প্রতিটি বাচ্চাকে সমানভাবে টিকা দেওয়া সহজ হবে। তবে প্রযুক্তিটি এখনও সব ধরনের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, টিকার স্থায়িত্ব এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
আন্তর্জাতিক সাময়িকী হেলিয়নে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। গবেষণা দলে ছিলেন রূপা আক্তার, সুব্রত বিশ্বাস, মো. জহির উদ্দিন রুবেল, সুজন কুমার সরকার, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হোসেন এম গোলবার, মো. ইমতিয়াজ আলম, মো. আব্দুর রকিব এবং মো. জহিরুল ইসলাম খান।
প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মাসুম বলেন, ‘ক্লোয়াকা-ভিত্তিক এই টিকাদান পদ্ধতি পোলট্রি শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য পোলট্রি ও গৃহপালিত প্রাণীর ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।’ গবেষকদের আশা, আরও গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশের পোলট্রি শিল্পে রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বিকল্প হিসেবে যুক্ত হবে এবং খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভ বাড়াতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন

×