পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ১১:১৪ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ | ১১:২৩
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। আজ রোববার ১১টার পর মামলাটির রায় পড়া শুরু হয়।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। পরে দুই আসামিকে এজলাসে তোলা হয়।
মামলার রায়কে ঘিরে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে এই দিন ঠিক করেন। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ মামলাটির রায় হতে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন—এটাই তার প্রত্যাশা।
তবে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্ল্যাহ বলেনছেন, বাদীপক্ষ তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি, তাই ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পরে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাঁচ দিন তদন্ত করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেখানে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আসামি করা হয়।
আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত করতে অভিযোগপত্র জমার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। এরপর এক দিনে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
