পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত
সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৩:৪৫ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৩:৫০
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে এ মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং অপরাধে তাকে সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, চিকিৎসকের রিপোর্ট এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তার স্ত্রীকেও সমপরিমাণ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ, দালিলিক সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত, ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্টসহ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণাদি দ্বারা অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা ও মোছা. স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে।
আদালত আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সোহেল রানার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সহিত মামলার অন্যান্য সাক্ষীর বক্তব্য, সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং প্রদর্শনীর জবানবন্দির মিল পাওয়া যায়।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত স্বপ্না খাতুন বিগত ১৯ মে সকাল ৯.০০ ঘটিকা হতে ১১.০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে তার এবং আসামি মো. সোহেল রানার ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। ভিকটিমের পিতা, মাতাসহ অন্যান্য সাক্ষীদের ডাকাডাকি ও দরজা খোলার অনুরোধ সত্ত্বেও দরজা না খুলে এবং অভিযুক্ত মো. সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পালানোর পরামর্শ ও দরজা না খুলে তাকে সহায়তা করেছেন; অর্থাৎ উক্ত ঘৃণ্য অপরাধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত বিজ্ঞ বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে বলেন, অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের ফ্ল্যাট হতে ভিকটিমের মাথা কাটা লাশ এবং বালতির ভেতর কাটা মাথা উদ্ধার করার বিষয়টি সাক্ষীদের বক্তব্য হতে প্রমাণিত।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ধর্ষণজাতীয় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাওয়া যায় না। এ কারণে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ ভিন্ন ভিন্ন মামলায় যেমন: ১৩ বিএলসি (২০০৮) ২৭১, ৫১ ডিএলআর (১৯৯৯) ১৫৪-এ মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতেও শাস্তি দেওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
উভয়কে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামিকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। পরে দুই আসামিকে এজলাসে তোলা হয়।
- বিষয় :
- পল্লবী
- শিশু হত্যা
- শিশু ধর্ষণ