হামের উপসর্গে ঢাকায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৫ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ১০:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও তিন শিশু মারা গেছে। গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হিসাব জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, এ সময় সারাদেশে আরও এক হাজার ১১০ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তিন শিশুই ঢাকায় মারা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪২ জনে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৫৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯২ শিশু।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮৩ হাজার ১৩৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৬ শিশু। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৪ হাজার ২৯৩ শিশু।
গত এক দিনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে নতুন করে ১৩২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৫৭ জন শিশু। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ১৪৮ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। অভিভাবকদের সতর্ক থাকার এবং শিশুকে নির্ধারিত টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত এপ্রিলে উদ্বেগ জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সে প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চলমান হামের পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত হাম পরিস্থিতি নিয়ে এপ্রিলের শুরুর দিকে বাংলাদেশের ‘ন্যাশনাল আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট’ যেসব তথ্য সরবরাহ করেছিল, সেগুলোর ভিত্তিতেই প্রতিবেদন তৈরি করেছিল জাতিসংঘের সংস্থাটি। সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, ঢাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এমন স্থানের মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকা।
- বিষয় :
- হাম
