ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

মে মাসে সড়কে ৬২২ জন নিহত

মে মাসে সড়কে ৬২২ জন নিহত
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে গত মে মাসে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং এক হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু ও সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনের দুর্ঘটনা তদারকি সেল গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং এক হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ২২১টি। এসব দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

যানবাহনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল। এ ছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ, বাস ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। দুর্ঘটনার প্রকৃতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে ঘটেছে। এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং বাকি দুর্ঘটনাগুলো বিভিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে।
সংগঠনের পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি, সড়ক বিভাজকের অভাব, অদক্ষ চালক, ফিটনেসহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং বেপরোয়া গতিতে যান চালানোর বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানোসহ ১১ দফা সুপারিশ করেছে।
 

আরও পড়ুন

×