ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

মুক্তিপণ না পেয়ে তরুণকে হত্যা

অপহরণের ৯ দিন পর মিলেছে মরদেহ

মুক্তিপণ না পেয়ে তরুণকে হত্যা
×

রাফিন

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর রাফিন (২২) নামে এক তরুণের অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে খালে। স্বজনরা বলছেন, অপহরণকারীরা তাদের কাছে ফোনে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। সেই টাকা না দেওয়া এই তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। 

নিহত রাফিন জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি এলাকার সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুরের অর্জুন খালে তাঁর মরদেহ দেখতে পান এলাকার লোকজন। সংবাদ পেয়ে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। 

রাফিন পেশায় ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানের চালক। তাঁর দাদি আমেনা বেগম জানান, গত শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাফিন ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। রাফিনের মোবাইল ফোন নম্বরে দফায় দফায় কল দিলেও সংযোগ পাননি। 

একই রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে রাফিনের দাবির মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলা হয়, রাফিনকে অপহরণ করা হয়েছে। 
তাঁকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ টাকা দিতে হবে। এ ঘটনায় পরদিনই আমেনা বেগম আলমডাঙ্গা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্বজনরা জানান, অপহরণকারীদের কাছে তারা রাফিনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। উল্টো ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে এই তরুণকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় তাদের।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সকালে নিহত তরুণের মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। 
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

জমির বিরোধে হত্যার অভিযোগ
বরগুনার পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ডসংলগ্ন এলাকার বাড়ির কাছে রাস্তার সামনে পাওয়া যায় তাঁর লাশ। নিহত মিজানুরের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 
মিজানুরের স্ত্রী পারভীন বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তাঁর স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে বাড়িতে ফেরেন। তিনি (মিজানুর) খাওয়া-দাওয়া করে সামনের কক্ষে ঘুমাতে যান। অন্য কক্ষে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পারভীন। সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ডেকে তুলে স্বামীকে হত্যার তথ্য জানান।

পারভীনের ভাষ্য, ‘আমার স্বামী বাইরে চার্জে রাখা অটোরিকশাটি মাঝেমধ্যে রাতে গিয়ে দেখতেন। যে জায়গায় অটোরিকশাটি চার্জে দেওয়া ছিল, এর প্রায় ১০ গজ দূরেই হত্যাকাণ্ডটি হয়েছে।’ তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিবেশী আব্দুল জলিলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে থানা ও আদালতে মামলা চলছে। বিভিন্ন সময় সালিশে মিজানুরকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন জলিল।
মিজানুরের বড় ভাই মো. শাজাহান মিয়ার অভিযোগ, জলিলকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মদদ দিচ্ছেন। তাদের প্ররোচনায় সহযোগীদের নিয়ে জলিল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তাদের ধারণা। 
পুলিশ জানায়, সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর সাড়ে ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মিজানুরের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মো. ফয়েজ উদ্দিন (৪৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনেরা এ ঘটনার জন্য স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের দায়ী করেছেন। 

নিহত ফয়েজ উদ্দিন উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাকতলা গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ভ্যানে করে আম, কাঁঠাল ও সবজি বিক্রি করতেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাকতলা গ্রামের ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পেছনে কবরস্থানের পাশ থেকে স্বঘোষিত মাদক নির্মূল কমিটির ১০-১৫ জন সদস্য ফয়েজ উদ্দিন, মো. কিরণ ও মো. আজিজ নামে তিনজনকে আটক করে। তাদের মাদকসেবী আখ্যা দিয়ে নদনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে ফয়েজ উদ্দিন গুরুতর অবস্থায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁকে ঘটনাস্থলে ফেলে অন্য দুজনকে নদনা ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। 

খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ কিরণ ও আজিজকে উদ্ধার করে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। স্বজনরা ফয়েজ উদ্দিনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ বিষয়ে ফয়েজের বাবা জামাল উদ্দিনের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। 
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ফয়েজের ছেলে রেজাউল করিম বাদশা বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। গতকাল শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ওসি মো. কবির হোসেন। সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) মনিষ দাস বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এজহারভুক্ত অন্য আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। 

পুকুরে ভাসছিল তরুণের লাশ
গোপালগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পুকুরে মিলেছে শাহিন শেখ (১৮) নামে এক তরুণের লাশ। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার চরমানিকদাহ গ্রামের একটি পুকুরে পাওয়া যায় তাঁর মরদেহ। 
শাহিন শেখ ঘোষেরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে। গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে শাহিনের সন্ধান পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। গতকাল সকালে এলাকাবাসী পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে জানায়। তারা সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন।
 

আরও পড়ুন

×