ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

গণমাধ্যম কমিশন হতে হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত

মতবিনিময় সভায় বক্তারা

গণমাধ্যম কমিশন হতে হবে  সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, বর্তমানে গণমাধ্যম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অপসাংবাদিকতাসহ নানা কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যম প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এই সময়ে সঠিক সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। এ জন্য গণমাধ্যম কমিশনকে হতে হবে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলে লাভ হবে না।

গতকাল শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস) এ সভার আয়োজন করে। সভা সঞ্চালনা করেন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের খসড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, শোনা যাচ্ছে, নতুন সরকার একটা গণমাধ্যম কমিশন করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছিল। এর মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য কিছু সুপারিশও দেওয়া হয়। আগের সরকার আশ্বাস দিলেও কিছু করেনি। এখন এই সরকার যদি সেই উদ্যোগ সঠিকভাবে এগিয়ে নেয়, তাহলে অবশ্যই সরকারকে সাধুবাদ জানাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ওয়ান হাউস ওয়ান মিডিয়া’ করার একটি প্রস্তাব আমরা করেছিলাম। এখন দেখছি, তারা একসঙ্গে তিনটি পত্রিকা বের করছেন। অথচ  বেতন দিতে পারছেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, যে গণমাধ্যম কমিশন তৈরি হবে, প্রত্যাশা থাকবে সেটা যেন বিচ্ছিন্ন কোনো কিছু না হয়। সেটা এমনভাবে তৈরি হোক, যাতে সব সময় অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। 
গণমাধ্যম কমিশনের একটি গবেষণা বিভাগ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন। তিনি বলেন, এই বিভাগ গণমাধ্যমের কী দরকার, কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, সেসব নিয়ে গবেষণা করবে। 

অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে ৪৩টা টিভি চলছে। অথচ বিজ্ঞাপনের মার্কেটের চেয়ে অনেক ছোট। ৩৫ শতাংশ বিজ্ঞাপন সরে গেছে। 
আরও বক্তব্য দেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, দ্য ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন প্রমুখ।  

আরও পড়ুন

×