বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট চলছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্না ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও দিনের বেশির ভাগ সময় চুলা ঠিকমতো জ্বলে না।
রাজধানীর পল্লবী, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, আদাবর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কমে গেছে। লালমাটিয়ার অনেক এলাকায় ৮-৯ দিন ধরে নিয়মিত গ্যাস মিলছে না। এতে অনেক পরিবার এক বেলা রান্না করেই দিন পার করছে।
তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা গতকাল শনিবার জানান, আমিনবাজার পয়েন্ট দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এই এলাকা থেকে লালমাটিয়া পর্যন্ত নানা স্থানে সংকট তীব্র।
লালমাটিয়ার বাসিন্দা নুরুল নাহার বলেন, ৮-৯ দিন ধরে গ্যাস নেই। সকালে চিড়া ভিজিয়ে নাশতা করতে হচ্ছে। রান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আদাবরের বাসিন্দা জাহিদ জানান, মাস শেষে নিয়মিত বিল দিলেও দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। রাতে কিছুটা চাপ থাকলেও তা রান্নার জন্য যথেষ্ট নয়। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মাসুক এলাহী বলেন, গ্যাস সংকটে জীবনযাত্রা এলোমেলো
হয়ে গেছে। সন্তানদের সময়মতো খাবার দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের একটি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) শনিবার জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে
গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবে সংকট আরও বেড়ে গেছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি পুনরায় গ্যাসীকরণ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত শনিবার একটি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হওয়ায় সরবরাহ প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট কমে ৮৫ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমেছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নায় বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তিতাস গ্যাস সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
- বিষয় :
- গ্যাস
