টানা বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা উত্তর পূর্বাঞ্চলে
শেরপুরে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত জনপদ
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১১:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগামীকাল সোমবার বর্ষাকাল শুরু। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হচ্ছে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ। এ পরিস্থিতিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভুগাই ও কংস নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মহারশি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে নদীর পানি উপচে ঝিনাইগাতী বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে বসতঘর, সরকারি কার্যালয় ও ফসলি জমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে ভুগাই, কংস ও আশপাশের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে নেত্রকোনায় ১৮১ মিলিমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, শেরপুর জেলার মহারশি, সোমেশ্বরী ও চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর ১২টার দিকে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার দুই থেকে আড়াই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ভুগাই নদীর পানিও বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় ছিল।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সমকালের শেরপুর প্রতিনিধি]
