ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

‘নিখোঁজের’ পর গ্রেপ্তার

শিবির নেতাকে নিয়ে সংসদে উত্তেজনা

শিবির নেতাকে নিয়ে সংসদে উত্তেজনা
×

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ২০:৫৮

ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের ‘নিখোঁজ হওয়ার’ দাবির বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এক নারীকে বিয়ে না করার টালবাহানায় তিনি নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন। বিষয়টিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিতে আনাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মনে হচ্ছে ‘একটি প্লট তৈরি’ করা হচ্ছে। এতে সংসদে উত্তেজনা ছড়ায়।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে ‘বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানের ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী’ শীর্ষক বিবৃতি সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, অনেকে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জিসানের নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পর তিনি বিষয়টি সংসদের মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। 

জিসান মিয়া প্রধানের গ্রেপ্তারের বিষয় তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকে এক নারীর সঙ্গে মোহাম্মদ জিসান মিয়ার পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে জিসান মিয়া মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জিসান মেয়েটিকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ভ্রূণ নষ্ট না করলে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ভিকটিম জীবনের ভয়ে ভ্রূণ নষ্ট করতে রাজি হন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জিসান মিয়া তাঁর পূর্বপরিচিত ও ঘনিষ্ঠ সিকান্দর আলীর ওষুধের দোকান থেকে ভ্রূণ নষ্ট করার ট্যাবলেট ক্রয় করে ভিকটিম মেয়েটিকে খাওয়ায়। ভ্রূণ নষ্ট হওয়ার ওষুধ সেবনের ফলে ভিকটিমের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে ভিকটিম নিজেই জিসানকে বিষয়টি জানায়। তখন জিসান সহযোগী সজীবের মাধ্যমে পুনরায় একই ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে ভিকটিমের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে ভিকটিম জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে জিসান বিয়েতে সম্মতি জানিয়ে ১২ জুন তারিখ ঠিক করে। ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টায় বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না।

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন। স্পিকার তখন বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। তিনি বলেন, ‘একটি বিতর্কিত সংসদে এভাবে বক্তব্য দেওয়া বোধহয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে বদনাম করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন।’ 

বিরোধীদলীয় উপনেতা এ সময় জানতে চান, জিসান এখন কোথায় আছে? তিনি দাবি করেন, কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দিচ্ছে না। যে মেয়ের কথা বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গেও কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটা দেখে মনে হচ্ছে যে উনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করছেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করা বা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চান। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। সংসদে চরম হইচই শুরু হয়। বিরোধীদলীয় উপনেতা তখন মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন।

আরও পড়ুন

×