ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

রৌমারী সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকা ছয়জন

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

রৌমারী সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকা ছয়জন
×

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৩০ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন নারী-শিশুসহ ছয়জন। গতকাল সোমবার দুপুরে তোলা- সমকাল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

টানা ৮০ ঘণ্টার তীব্র উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মানবিক সংকটের অবসান ঘটেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১০টায় জরুরি পতাকা বৈঠকের পর চার শিশুসহ ১২ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর মাধ্যমে প্রাগপুর সীমান্তে বিরাজমান থমথমে পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। 

এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ রয়েছেন ছয়জন। তবে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে তীব্র প্রতিরোধের মুখে এক বৃদ্ধকে ফেরত এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পুশইন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বিএসএফ। 

দৌলতপুর সীমান্ত সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে এই ১২ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা শূন্যরেখার একটি পাটক্ষেতে আটকে পড়েন। খাবার, সুপেয় পানি ও আশ্রয়ের অভাবে খোলা আকাশের নিচে টানা ৮০ ঘণ্টা আটকে থাকায় বিশেষ করে শিশু ও নারীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। এই সময়টায় স্থানীয় বাংলাদেশিরা দূর থেকে তাদের মানবিক সহায়তায় খাবার ও পানি সরবরাহ করেন। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল বেলা সাড়ে ১০টায় প্রাগপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অফিসার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের পর বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ ওই ১২ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভূখণ্ডে ফেরত নিয়ে যায়। 
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সুনির্দিষ্ট বৈধ প্রমাণ ছাড়া কাউকেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। 

রৌমারী সীমান্তে ৩০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় নারী-শিশুসহ ৬ জন 
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তেও পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। নারী-শিশুসহ ছয়জনকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তা ব্যর্থ হয়। তবে এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। 
বিজিবি সূত্র জানায়, গত রোববার ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এক নারী, তিন পুরুষ, দুই শিশুসহ এই ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও স্থানীয়দের তীব্র বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবিক কারণে দূর থেকে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছেন। 
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুশইনের বিষয়টি নিয়ে জরুরি পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ 

পাঁচবিবি সীমান্তে সেই বৃদ্ধকে ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ 
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তেও এক ভারতীয় বৃদ্ধকে (৭৫) জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে গত রোববার রাতে সীমান্ত এলাকার লাইট বন্ধ করে ওই বৃদ্ধকে ফেরত নিয়ে গেছে তারা। 
এর আগে রোববার সকালে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে ফসলি মাঠে ওই বৃদ্ধকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় কৃষকদের সন্দেহ হয়। তৃষ্ণার্ত ওই বৃদ্ধ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে জানান, ভোরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা গ্রামবাসীদের সহায়তায় তাঁকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠান। কিন্তু বিএসএফ তাঁকে ভেতরে না নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখার একটি ডোবার মধ্যে বসিয়ে রাখলে দিনভর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। 
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান জানান, বিএসএফ এক ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তা কঠোরভাবে পুশব্যাক করে। 

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ সময় সীমান্তে হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার কালীরহাট সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় থাকা সার্চলাইট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভারতের দিক থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সতর্ক অবস্থান নেন। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও সীমান্তে জড়ো হন। তাদের উপস্থিতির কারণে ওই চেষ্টা সফল হয়নি। এরপর বিএসএফ সদস্যরা দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের আবারও ভারতে  ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘তিনজন ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।’ 
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি) 

আরও পড়ুন

×