ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুভ জন্মাষ্টমীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা 

শুভ জন্মাষ্টমীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা 
×

ছবি: বাসস

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫১ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৩

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকাসহ সারাদেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ছাড়াও ছিল গীতাযজ্ঞ, বিশেষ প্রার্থনা সভা, নামকীর্তন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, কৃষ্ণপূজা, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা এবং সংগীতানুষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন মন্দির, মঠ ও পূজামণ্ডপ আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। তাতে ফুটে উঠেছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা।  

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে দুদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব শুক্রবার শুরু হয়। এদিন সকাল ৮টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন। বিকেলে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন পলাশীর মোড়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।  

সনাতনদের ভোটব্যাংক হিসেবে দেখার ফ্যাসিবাদী ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে দেখার অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ ভেঙে গেছে। দেশের সংবিধান সব ধর্মের মানুষের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দিয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। বর্তমান সরকার সংবিধানের সেই বক্তব্যকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। সেটাকে আমরা বাস্তবে প্রমাণও করেছি। 

তিনি বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, তবে নাগরিক পরিচয়ই হবে প্রধান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা নৃগোষ্ঠী- সবাই নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার স্বাধীনভাবে পালন করবেন। জাতীয়তা হিসেবে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

উদ্বোধকের বক্তব্যে আবদুস সালাম হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, এ দেশটা যেমন আমার, তেমনি আপনারও। এখানে আমার যে অধিকার, আপনারও সেই অধিকার। কোনোভাবই এ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেলে, সেই অধিকার পাবেন না। সবাই মিলে সুখে-দুঃখে আমরা একসঙ্গে মিলেমিশে থাকব।     

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা প্রমুখ। 

উদ্বোধনের পর বিকেল পৌনে ৫টায় পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে জন্মাষ্টমীর শোভযাত্রা বের হয়। হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবালবৃদ্ধবনিতার অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভযাত্রার সর্বাগ্রে ছিল   জাতীয় পতাকা এবং হাতি ও রথে ধর্মাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতি। 

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বর্ণাঢ্য বেশ কয়েকটি মিছিলে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তটি স্মরণ করিয়ে দিতে ছোট ছোট শিশুকে কৃষ্ণের অবয়বে সাজিয়ে মাথায় নিয়ে মিছিলে অংশ নেন ভক্তরা। এ সময় ঢাক, খোল, করতাল, শঙ্খ, উলুধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। ব্যান্ড পার্টি ও ঢাকঢোলের তালে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নেচে-গেয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবাহন সংগীতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। 

শোভাযাত্রাটি পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। এই দীর্ঘ পথে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ করেন এই দৃষ্টিনন্দন জন্মাষ্টমীর মিছিল। দীর্ঘ এই মিছিলের কারণে ছুটির দিনেও কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। মিছিলকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। 

অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় ও শেষ দিন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে জন্মাষ্টমী মহোৎসবে আলোচনা সভা, গরিব-দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র, খাদ্য বিতরণসহ জন্মাষ্টমীর নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। 

বিএনপি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি: অর্থমন্ত্রী
বিএনপি সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ধর্ম মহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

যে যার ধর্ম পালন করবে, কোনো মাস্তানি চলবে না: আইনমন্ত্রী
যে যার ধর্ম পালন করবে, কোনো মাস্তানি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার ঝিনাইদহের শৈলকুপার পৌর এলাকার রামগোপাল মন্দিরে শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসব ও শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক: কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানবকল্যাণ, ন্যায়, সৌন্দর্য, সহমর্মিতা ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। সকালে কুমিল্লায় জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সম্প্রীতির বাংলাদেশ তৈরি করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না। আমরা ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে থেকে সবাই একসঙ্গে থাকব। অশুভ শক্তিকে হটিয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ তৈরি করব।
দুপুরে মানিকগঞ্জ শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি নাটমন্দিরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিভক্তির চেষ্টা ঠেকানো হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
ধর্মকে পুঁজি করে যারা সস্তা রাজনীতির নামে বাংলাদেশকে বিভক্তির পাঁয়তারা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দুপুরে যশোর শহরের টাউন হল ময়দানে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। 

(এ প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিরা)

আরও পড়ুন

×