খোলা আকাশের নিচে বসবাস তিস্তায় গৃহহারা পরিবারের
হাঁটু পানির মধ্যে চৌকি পেতে পলিথিন ও টিনের ছাউনির নিচে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করছে তিস্তার ভাঙনে গৃহহারা কয়েকটি পরিবার। ছবি: সমকাল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪০
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে গৃহহারা পরিবারগুলো গত দুদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে হাঁটু পানির মধ্যে চৌকি পেতে পলিথিন ও টিনের ছাউনির নিচে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। থাকা-খাওয়াসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বসতবাড়ি হারানো পরিবারগুলো।
দুদিনের ব্যবধানে তিস্তার স্মরণকালের ভাঙনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরের সিংগীজানী গ্রামের ১৩০টি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ দেড় শতাধিক একর ফসলি জমিও তিস্তার পেটে চলে গেছে।
শুক্রবার চরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার কারণে ভাঙনের গতি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদাসীনতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলায় উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বারবার ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
এদিকে গত ১৮ আগস্ট তিস্তার ভাঙনে ভোরের পাখি চরের সিংগীজানী গ্রামের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্কুলটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে চরের ছেলেমেয়েদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাফিজার রহমান বলেন, ভাঙনের খবর দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ভাঙনকবলিত এলাকায় আসেন। তা না হলে তারা আসেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে দুই শতাধিক কসতবাড়ি, শত শত একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিন বিকেলে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে ৩০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল এবং অপর ৭০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন তিনি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এই মুহূর্তে নদীভাঙনে গৃহহীন পরিবারগুলোকে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো সহায়তা করার সুযোগ নেই।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, জিও ব্যাগ ফেলার কারণে ভাঙনের গতি অনেকটা কমে গেছে। স্থায়ী ব্যবস্থা না করলে নদীভাঙন অব্যাহত থাকবে। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।
স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে গৃহহীনদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আরও ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
- বিষয় :
- গাইবান্ধা