কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা
পিসিওএস মানেই বন্ধ্যত্ব নয়, ওজন কমালে সুফল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:০০
প্রজননক্ষম নারীর হরমোনজনিত সমস্যাগুলোর অন্যতম পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)। তবে পিসিওএস শুধু মাসিকের অনিয়ম, সন্তান ধারণের সমস্যা কিংবা ডিম্বাশয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো রোগ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি হরমোন ও বিপাকীয় জটিলতা। তাই বয়ঃসন্ধি থেকে প্রজনন বয়স এবং মেনোপজ পর্যন্ত আক্রান্ত নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।
বিশ্ব পিসিওএস সচেতনতা মাস উপলক্ষে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) পিসিওএস টাস্কফোর্সের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ঢাকার একটি হোটেলে ‘পিসিওএস: হরমোন, বিপাক ও প্রজননস্বাস্থ্যের জটিল সমস্যা’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বারডেমের পরিচালক (একাডেমিক) ও বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান। কর্মশালায় পাঁচটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনা হয়।
বিএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিইএসের সভাপতি ডা. শাহজাদা সেলিম তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, ‘অনেক নারীর ডিম্বাশয়ে সিস্ট না থাকলেও পিসিওএসের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। নাম যাই হোক, সমস্যাটি শুধু ডিম্বাশয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এ সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।’
পিসিওএস হলে মাসিক অনিয়মিত হওয়া, ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হওয়া, মুখ ও শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ, মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং পেটের দিকে চর্বি জমে ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘অনেক নারী এসব লক্ষণকে সাধারণ বা সাময়িক সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ নারীই মা হওয়ার সুযোগ পান।’
মেদ ঝরালে মিলবে সুফল
বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনায় বলা হয়, শরীরের ওজন ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও অনেকের মাসিক নিয়মিত হতে এবং ডিম্বস্ফোটন স্বাভাবিক হতে পারে; একই সঙ্গে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমতে পারে। পরিশোধিত শর্করা ও মিষ্টি পানীয় কমিয়ে সুষম খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় আলোচনায়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএস আক্রান্ত নারীদের ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। পাশাপাশি বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যারও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ও বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারিয়া আফসানা, বিএমইউর সহকারী অধ্যাপক ও বিইএসের পিসিওএস টাস্কফোর্সের কো-অর্ডিনেটর ডা. মারুফা মোস্তরী, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিইএসের কোষাধ্যক্ষ ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাইফুদ্দীন।
- বিষয় :
- কর্মশালা
- বিশেষজ্ঞ মত