বিরোধীদল বাজেটের সমালোচনা করায় সংসদে সরকারি দলের ক্ষোভ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ২২:৪৪
বিরোধীদল আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তারা বাজেটকে জনবান্ধব, কল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিরোধীদলের সমালোচনাকে ভিত্তিহীন বলেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে।
বিরোধীদলের এমপিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী। মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলেন, যে বাজেটে মদ, সিগারেটের কর বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেই বাজেট তাদের ভালো লাগছে না! সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য মমতাজ আলম বিরোধীদলের সমালোচনাকে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, তারা ফুলের বাগানের ঘ্রাণ নিচ্ছে, কাঁটা নিচ্ছে না।
বিরোধীদলীয় এক এমপি ভাঙাচোরা সড়কের বিষয়টি বাজেট আলোচনায় আনেন। এর জবাবে নারী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি জীবা আমিনা খান বলেন, 'দ্য রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন, দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন, ফ্রম দ্য প্রিভিয়াস রিজিম।' জেবা আমিন ১১ মিনিট বক্তব্য করেন ইংরেজিতে। মাঝেমাঝে বাংলা শব্দের কারণে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়ানোর পর সামাজিকমাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবা আমিনার পর যশোর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াত এমপি মোক্তার আলীও ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। এতে বলেন, করের চাপ বাড়বে প্রস্তাবিত বাজেটে।
জামায়াতের আরেক এমপি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, বাজেটের প্রধান ক্ষতিকর দিকগুলো মধ্যে রয়েছে উচ্চহারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্য বাজারে চাপ বৃদ্ধি করবে। রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার ফলে সাধারণ মানুষের উপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রয়েছে। আর মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আবদুস সাত্তার তার বক্তব্যে চালুনি এবং সুঁইয়ের ফুটোর বিষয় আনেন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অশালীন শব্দ চয়ন থেকে বিরত থাকতে বলেন জামায়াত এমপিকে।
বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়া এ জেড এম রেজোয়ানুল হক বাজেটের প্রশংসা করলেও, কর হ্রাসের প্রস্তাব করেন।
বিএনপির এমপি মোহাম্মদ মোমিনুল বলেন, এবারের বাজেটে জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি বিষয়বস্তুকে সন্নিবেশিত করে তিনি বাজেটটি উপস্থাপন করেছেন।
বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটকে সংসদ গ্রহণ করেছে। দেশবাসী গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল গ্রহণ করেছে। প্রতিবার দেখি যখনই বাজেট ঘোষণা হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাজারে আগুন ধরে যায়। এবারই প্রথম বাজেটের পর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়নি। অর্থমন্ত্রী চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, চিনিসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমিয়েছেন।
বিরোধীদলের সমালোচনার জবাবে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, বাজেটটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা।
মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য আবুল হাসান। সিলেট-৫ আসনের এই এমপি বলেন, মাদকের সন্ত্রাস বা মাদকের সয়লাব থেকে বাঁচাতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, যেভাবে ট্যাক্সের জালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আটকানোর কথা বলা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ই-টিন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। আমি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
আজ বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। এ সময় তিনি ‘মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দিন’ লেখা একটি প্লেকার্ড দেখান।
- বিষয় :
- জাতীয় সংসদ
- বিরোধী দল
