ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি
×

ম্যাপ

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫২

কুমিল্লার লাকসামে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার গুরুতর অভিযোগে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আলমগীর হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিএনপি গঠনতন্ত্র, নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছাপুরা গ্রামের চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, তাঁর এই অপকর্মের ফলে দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ জন্য তাঁকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় ভবিষ্যতে দলের নাম, পরিচয় বা সাবেক দলীয় পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের মমিন আলী পরিবারের প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সর্বশেষ ১৯ জুন দুপক্ষকে জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে ২০ আগস্ট আবার সালিশে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ২ জুলাই মমিন আলী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালতে মামলা করার অভিযোগ তুলে গত সোমবার মাইকিং করে মমিন আলীসহ চার পরিবারের সদস্যদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার নেতৃত্বে ছিলেন ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন। তিনি গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে আলমগীর হোসেনই নেতৃত্ব দিয়ে তাদের সমাজচ্যুতের মাইকিং করিয়েছেন। তারা এখনও ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।

জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করলেও মাইকিং করানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আলমগীর। তিনি সমকালকে বলেন, ‘দল থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গতকাল শুক্রবার জেনেছি। বিষয়টি থানায় মীমাংসা হওয়ার পরও আমাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে  অনেকেই ষড়যন্ত্র করেছেন।’

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন নাহার লাইলী জানান, জমি নিয়ে বিরোধে একপক্ষ আদালতে মামলা করায় চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করে মাইকিং করা হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে গত বুধবার দুপক্ষকে থানায় ডেকে সমাজচ্যুত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।

লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল সমকালকে বলেন, কেউ দলের পদ ব্যবহার করে অপকর্ম করতে পারবে না। তাই দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×