ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে: সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে: সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী
×

সংসদে বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ২০:৪২

আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত চুক্তি এবং সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত বর্তমান চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তি সই, যৌথ নদী কমিশন শক্তিশালী করা এবং অববাহিকাভুক্ত দেশ ভারত, নেপাল, ভূটান ও চীনের সমন্বয়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, উজানের দেশগুলো আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশের পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি অসত্য নয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উজানে পানির লভ্যতা হ্রাস পাচ্ছে।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের অপর প্রশ্নে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৬৬ কিলোমিটার খাল খনন এবং পুনঃখনন করবে।

জামায়াতে ইসলামীর নুরুল ইসলামের প্রশ্নে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্বার্থ সংরক্ষণে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শক রাখা হয়েছে।

নওগাঁ-৩ আসনের ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ৯ হাজার ৪৬ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাছ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ 

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মৎস্য উৎপাদন ও জনসংখ্যার তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশে মাছের চাহিদা জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম। এই হিসাবে দেশে মাছের বার্ষিক চাহিদা ৩৮ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে মাছের মোট উৎপাদন ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন। ফলে মাছ উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ।

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে মাছ আমদানি করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৮১ কোটি টাকার ৬৬ হাজার ৬৪৯ মেট্রিক টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭৫ কোটি টাকার ৫৫ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন মাছ আমদানি করা হয়েছে।

পাবনা-৫ আসনের মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন।

আরও পড়ুন

×