ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সংসদে জুলাই শহীদের মায়ের বক্তৃতা, আশ্বস্ত করতে মন্ত্রীর বিবৃতি

সংসদে জুলাই শহীদের মায়ের বক্তৃতা, আশ্বস্ত করতে মন্ত্রীর বিবৃতি
×

শিশু শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম। ছবি- সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০০:৫৬

জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করেছেন অভ্যুত্থানের শিশু শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম। জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেছেন, শহীদের বাবা অথবা মায়ের ভাতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার আগে, সন্তানের হত্যার বিচার চায়। বিচার ছাড়া ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্তি সম্ভব নয়। 

আশ্বস্ত করে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, শহীদের মায়ের প্রতিটি কথা আমাদের চেতনায়, আমাদের রক্তে, আমাদের বিপ্লবে, আমাদের সংগ্রামের প্রেরণার মূল। 

জুলাই যোদ্ধাদের আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সরকার জুলাই যোদ্ধাদের সরকার, জুলাই চেতনার সরকার। আইনি কাঠামোর মধ্যেই জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দিয়েছে। সেটাই রাজনৈতিক সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে। এর বাইরে যদি কোনো রাজনৈতিক সুরক্ষার প্রয়োজন হয়, আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে সেই সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত আছি।

চব্বিশের ৫ আগষ্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হয় বাবার হাতধরা ৬ বছর বয়সী জাবির। সংরক্ষিত মহিলা আসনে তার মা রোকেয়া বেগমকে এমপি নির্বাচিত করেছে জামায়াত। তিনি মঙ্গলবার বাজেট আলোচনায় বলেছেন, ভাতা ও সুবিধার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর প্রধান দাবি হলো প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার। 

ছেলে জাবির ইব্রাহিমের স্মৃতিচারণ করে রোকেয়া বেগম বলেন, ৫ আগস্ট আমার ছোট্ট ছেলেটা গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তক্ষরণে শাহাদাত বরণ করে। আমি যখন ওকে দেখছিলাম, তখন দেখছিলাম ও সাদা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। একটা ফোঁটা রক্তও ওর ভেতরে ছিল না। পুরো রক্ত এই জমিনে পড়ে গিয়েছিল। 

রোকেয়া বেগম আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য তুলে ধরে সংসদে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮০ মামলার সাতটিতে রায়। দুই বছরে মাত্র সাত রায়ে বোঝা যাচ্ছে, বিচার প্রক্রিয়া কতটা ধীরগতির। সব মামলা মিলিয়ে আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেপ্তার হলেও ২৮৮ জন  পলাতক। এই ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তারের অগ্রগতি কী?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বীকৃতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই মা। তাঁর ভাষ্য, শহীদের সংখ্যা হাজারেরও বেশি ছিল। কিন্তু গেজেটভুক্ত হয়েছে মাত্র ৮৩৪ জনকে। আরও প্রায় ৫০ জন শহীদের নাম এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি। আহত জুলাই যোদ্ধাদের শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, একজন যোদ্ধা হাত হারিয়েছে, সে কীভাবে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকতে পারে? স্বীকৃত ৮৩৪ জন শহীদ এবং ১৪ হাজার ৪০৭ জন আহত যোদ্ধা শুধু পরিসংখ্যান নয়, প্রত্যেকের  পেছনে আছে একেকটি বিপর্যস্ত পরিবার।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে রোকেয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৮৩১টি শহীদ পরিবার ও ৬২৭ জন আহত যোদ্ধাকে ১২০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিবেদনে এর স্বচ্ছতা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু গত তিন মাস ধরে ফাউন্ডেশনের কর্মীরা বেতন ও ঈদ বোনাস পাননি। ফাউন্ডেশনের জন্য পৃথক আর্থিক কোডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাস্তব জীবনে জুলাই যোদ্ধাদের হুমকি, নির্যাতন এবং স্মৃতিস্তম্ভে হামলার অভিযোগ তুলে রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাইকে মুছে ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্টের বাহিনী বাস্তবে ও সামাজিক মাধ্যমে অতিমাত্রায় তৎপর। এ কারণেই সুরক্ষা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×