সরকারের বৈদেশিক ঋণ সোয়া ৭৮ বিলিয়ন ডলার
অর্থমন্ত্রী বললেন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত মার্চ পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ হাজার ২৩৩ মিলিয়ন বা ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গতকাল বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
চাঁদপুর-৩ আসনের শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ। ঋণ হিসাবের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭। ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবায়স্ক নাগরিকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করে ‘নো উইন নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস. আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল
মাজেদের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজস্ব প্রদানকারী নিবন্ধিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।
গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আওতায় চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যেসব ব্যাংক অর্থসংকটে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না, তাদের বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দিচ্ছে। গত ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন এমপি একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ওই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- অর্থমন্ত্রী
