প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা-শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসকারী হাজারো মা ও শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
গতকাল বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এক ‘লার্নিং প্রচার’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন) এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ‘ট্রান্সফর্মিং লাইভস থ্রু নিউট্রিশন’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের দ্বিতীয় বছরের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. যতন ভৌমিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পটি গ্রামীণ ও নগর–দুই ধরনের এলাকাতেই বাস্তবায়িত হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে সুনামগঞ্জ ও বরিশালের পাঁচটি উপজেলা এবং নগর অঞ্চলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বেগুনটিলা ও সাততলা বস্তি এর আওতায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫৭ হাজার ৩৮১ জন শিশু এবং তাদের ৫৪ হাজার যত্নকারীর কাছে পুষ্টিসেবা পৌঁছে দেওয়া। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতভাগ ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার কার্যকর করা হয়েছে। এসব কর্নারের মাধ্যমে আট হাজার ৫৬৪ জন যত্নকারীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তীব্র অপুষ্টি শনাক্ত ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্যে থাকা শিশুদের ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৫ হাজার ৩৫৪ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৩ জন শিশুকে অতি তীব্র অপুষ্টি (এসএএম) এবং চার হাজার ২৯৩ জন শিশুকে মাঝারি তীব্র অপুষ্টিতে (এমএএম) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসা শেষে ৮৮ শতাংশ শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তীব্র অপুষ্টি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক যত্নকারীর জন্য দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউএইচ উইং) শেখ মোমেনা মনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মা ও শিশুর জন্য কমিউনিটি পুষ্টিসেবার সুযোগ বাড়াতে এবং পুষ্টি-তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইপিএইচএনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলী।
- বিষয় :
- পুষ্টি
