নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ
এনআইডিতে বিয়ের তথ্য গোপনের পথ বন্ধ হচ্ছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) বিয়ের তথ্য গোপন করার পথ বন্ধ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে কাবিননামা ও তালাকনামা অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসায় এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই গোপনে বিয়ে করেন, ফলে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার নির্ধারণে সমস্যা হয়। আবার পেনশন সংক্রান্ত বিষয়েও বৈবাহিক তথ্য গোপনের কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া তালাক হয়ে যাওয়ার পরও তা চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয়। অন্যদিকে স্বামী বা স্ত্রীর নামে সংশোধনেও জাল কাগজপত্রের আশ্রয় নেন অনেকে। ফলে এনআইডি সংশোধনেও জটিলতা দেখা দেয়।
এসব বিষয় এড়াতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈবাহিক অবস্থা বা এ-সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে তালাকনামা, কাবিননামা যাচাইয়ের জন্য অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) চাওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে এনআইডি অনলাইন আবেদন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হবে। অনলাইন আবেদনে নির্দিষ্ট ঘর রাখা হবে, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্ভারের লিংক থাকবে। তালাকনামা ও কাবিননামার তথ্য সেখানে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সংশ্লিষ্ট সার্ভার থেকে যাচাই হবে। কেউ যদি ভুয়া তথ্য দিয়ে থাকেন বা ওই ঘর পূরণ না করেন, তবে পরবর্তী ধাপে আর যেতে পারবেন না। ফলে ভুয়া কাগজ দিয়ে আবেদনেরও সুযোগ থাকবে না।
বৈবাহিক তথ্য ছাড়াও আরও আট ধরনের তথ্য এভাবেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের দিকে যাচ্ছে ইসি। বিআরটিএ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শাখার কাছেও ইতোমধ্যে এপিআই চাওয়া হয়েছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একটি নির্ভুল এনআইডি সার্ভার গড়ে তুলতে হলে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শতভাগ সঠিক হতে হবে।
- বিষয় :
- নির্বাচন কমিশন